বিএনপি এখনই জাতীয় নির্বাচন চায় : মির্জা ফখরুল

নির্দলীয় সরকারের অধীনে এখনই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, মধ্যবর্তী নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে এখনই নির্বাচন চাই । মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হচ্ছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু সরকার সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়। সত্য কথা বলার অপরাধে ব্যারিস্টার ফখরুলকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের পদক প্রত্যাহার কিংবা মাজার সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র সরকারের নিচু মানসিকতার পরিচয় বলেও মন্তব্য বিএনপির মহাসচিবের।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার উত্তরায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন আবার কী, আমরা তো এ মুহূর্তে নির্বাচন চাই। কিন্তু সেই নির্বাচনটা হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে একটা আলোচনা হওয়া উচিত। আগামী নির্বাচনটা কীভাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, ইনক্লুসিভ একটা নির্বাচন হতে পারে সে ব্যাপারে।
ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, এখন এ দেশে আমরা যে কথা বলছি, এটাই তো বিশাল ব্যাপার। আপনারা কতটুকু লিখতে পারছেন, আমরা দেখছি। আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কিছু লেখেন না আপনারা। কারণ, লিখতে পারেন না। আই ডোন্ট ব্লেম ইউ (আমি আপনাদের দোষ দিচ্ছি না)। আপনারা পারেন না, সেই পরিবেশ নেই। ৩৫টা অনলাইন বন্ধ করে দিল। এক কথায়, এক মুহূর্তের মধ্যে! কীভাবে বলেন এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ?
গোটা দেশ অশান্তি, অস্বস্তি আর দু:শাসনে ছেয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন এসব কিছুর মূলে রয়েছে গণতন্ত্রহীনতা। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের চেয়েও বর্তমান সময়ে বেশি বিরাজনীতিকীকরণ চলছে।
ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিস্ট আখ্যায়িত করে মির্জা ফকরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তির লড়াই মোটেও সহজ নয়। তিনি এও বলেন, চলমান সংকট নিরসনে নিজেদের স্বার্থেই বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে হবে সরকারকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে জনগণ একদিন ঠিকই ঘুরে দাড়াবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে জঙ্গিসহ যেসব সংকট চলছে তা কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে কেটে যাবে। বিএনপি সব দলের অংশগ্রহণের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। তিনি বলেন, সংকট থেকে উত্তরণ হতে হবে। কেননা কেউই চায় না এ দেশ আফগানিস্থান, সিরিয়া, লিবিয়া হোক।
দেশে গণতন্ত্র থাকলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হতো না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভিন্ন মতকে দমন করে জোর করে ক্ষমতায় থাকা কোনো সমাধান নয়। এরপরও আওয়ামী লীগ অনৈতিকভাবে কৌশলে ক্ষমতা দখল করে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে আজ রামপাল নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকতো তাহলে এমনটা হতো না। দেশে গণতন্ত্র কোথায়? আমরা কি সিরিয়া, লিবিয়া হতে যাচ্ছি?
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। সত্য কথা বলায় বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে ১০ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল। যারা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের রাজনীতিতে শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল। কিন্তু এখন দলটির আচরণ দেশ, গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিরোধী।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী মামলার রায় ফাঁসের ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে তার আইনজীবীর সাজার আদেশ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দশ বছর জেল দিয়েছে আইসিটি মামলায়, আমাদের ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম সাহেবকে। অপরাধ কী? সত্য কথা বলার অপরাধ। সত্য কিছু কাগজ তিনি তুলে ধরেছেন। এটাই অপরাধ আজকে।
বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়েরের সমালোচনা করে ভারতের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, জওহরলাল ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা কাশ্মীর নিয়ে কিছু বলল। সরকার কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করল। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল যে, কথা বললেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয় না। তাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে, তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায় পড়ে।

You Might Also Like