জিয়ার পদক প্রত্যাহারের প্রতিবাদে শনিবার দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার ঢাকায় এবং শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির ঘোষণা করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, শনিবার দেশব্যাপী জেলা সদর এবং মহানগরগুলোতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকায় এই কর্মসূচি শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু আদালতের রায় বিকৃত করে তাঁর (জিয়াউর রহমান) পদক সরিয়ে ফেলে, মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়। তারাই মূলত স্বাধীনতাবিরোধী। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এরা কখনোই ইতিহাসে স্থান পায় না।’

২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়। তৎকালীন বিএনপির সরকারের ওই পদক্ষেপ জিয়াকে ওপরে তোলার চেষ্টা এবং জাতির জনককে অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সম্প্রতি জিয়াউর রহমানকে দেয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

পদক প্রত্যাহারের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‌এই সিদ্ধান্তে শুধু জিয়াউর রহমানকে হেয় করা হচ্ছে না, স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা অসাধারণ অবদান রেখেছেন তাদের সবার জন্য এটি চরম অবমাননাকর।

ফখরুল বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অবদানকে যারা অস্বীকার করে শুধুমাত্র আদালতের রায়ের বিকৃত ব্যাখ্যা করে তাঁর পদক সরিয়ে ফেলে মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়-তারাই স্বাধীনতা বিরোধী।”

বর্তমান সরকারের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি অবিলম্বে স্বাধীনতা পদক যথাস্থানে স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জের রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ‘একজন আর্মি রুলস ভঙ্গকারী অবৈধ দখলদার প্রেসিডেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি।

ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দুই বিচারপতির দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। তবে অবৈধ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারী বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের রায় প্রকাশ পেয়েছে আজ।

গত ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এতে অপর বিচারক বিচারপতি আশরাফুল কামাল ভিন্নমত পোষণ করেন।

ওদিকে, আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি জানিয়েছে, “বুধবার জাতীয় জাদুঘর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গণের বীর সেনাপতি, জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এর স্বাধীনতা পদক সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকতে আহবান জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু সরকার কর্ণপাত না করে বুধবার তা বাস্তবায়ন করেছে।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। জনগণের হৃদয়ে প্রোথিত জিয়াকে মুছে ফেলা যাবে না কারণ জিয়া এবং বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য।”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেন। ৫ম সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভূক্তির ফলেই আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো পুনরায় রাজনীতি করার আইনগত বৈধতা অর্জন করেন।”

You Might Also Like