‘ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস নজরদারিতে’

বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তানের দূতাবাসকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কাশিমবাজার কুঠি’তে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশন। তারা কি ষড়যন্ত্র করছে তা জানতে দূতাবাসটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’

জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে পাকিস্তান ও তুরস্কের দেয়া বিবৃতির প্রতিবাদে আজ রাজধানীর সেগুন বাগিচায় অবস্থিত স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নৌমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

শাজাহান খান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা তাদের নির্লজ্জ পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি। তারা বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে এখনও লিপ্ত আছে।

‘বিজয়ের উল্লাস ক্ষণিকের, পরাজয়ের গ্লানি দীর্ঘস্থায়ী’– এমন মন্তব্য করে শাজাহান খান বলেন, ‘পাকিস্তানিরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে। এ পরিস্থিতিতে বাঙালি জাতি নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণকে জাগ্রত করে গণজোয়ার সৃষ্টির মাধ্যমে পাকিস্তানের সকল চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব (কল্যাণ) আলাউদ্দিন মিয়া, মুক্তিযুদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি ইসমত কাদের গামা, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব কালী নারায়ন লোধ প্রমুখ।

ওদিকে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাবেক উপদেষ্টা, ধীরাজ কুমার নাথ আজ তার লিখিত এক প্রবন্ধে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনার তালিকা প্রকাশ করে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকার একটি আনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রবন্ধে তিনি প্রস্তাব করেছেন, “এইসব জঘন্য অপরাধীর তালিকা ইন্টারপোলে দিয়ে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্যে উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে তারা একাত্তরে কী ধরনের হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছে তার ফিরিস্তি প্রকাশ করা যেতে পারে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের মৃত্যু এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির জন্যে তাদের হত্যাকারী, ধর্ষক তথা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজনে যেতে হবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কাছে, যেখানে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইবে বাংলাদেশ”

ধীরাজ কুমার নাথ আরো প্রস্তাব করেছেন, বাংলাদেশে যে সব বিহারি আছে এবং যারা পাকিস্তানের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেছিল, তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে হবে। পাকিস্তান যদি এদের ফিরিয়ে না নেয়, তাহলে এদের ভরণ-পোষণ বাবদ যাবতীয় ব্যয় পাকিস্তানের কাছ থেকে আদায় করতে হবে।

সাবেক এ উপদেষ্টা দাবি করেছেন, পাকিস্তানকে বাংলাদেশের হিস্যা বা প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিতে হবে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশকে একটি দাবিনামা উপস্থাপন করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে যে সময়ের মধ্যে তারা বাংলাদেশের দাবি পূরণ করবে। তারা যদি এতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি তুলে মামলা চালিয়ে যেতে হবে।

অতঃপর তিনি প্রস্তাব করেছেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না করে এবং সন্ত্রাসীদের লালন ও ভরণ-পোষণ থেকে বিরত না হয়, তাহলে পাকিস্তানকে সার্কভুক্ত দেশ থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব দিতে হবে।

ধীরাজকুমার মনে করেন, আমরা যে এখন ২৫ মার্চ কালো রাত হিসেবে পালন করছি তা বাদ দিয়ে পাকিস্তানিদের বর্বরতার প্রতিবাদ হিসেবে এ দিনটিকে ‘ঘৃণা দিবস’ হিসেবে পালন করতে হবে। সেদিন পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা হবে বাংলাদেশের সর্বত্র। #

পার্সটুডে

You Might Also Like