রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল নীলফামারী থেকে গ্রেফতার

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৪) হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল খানকে নীলফামারী থেকে (২৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নীলফামারী পুলিশের এডিশনাল এসপি (সার্কেল) ফিরোজ আহমেদ জানান, আজ (বুধবার) সকালে পুলিশের অভিযানে ডোমার উপজেলা থেকে ওবায়দুলকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ঢাকা থেকে আসা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রাম থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত ওবায়দুল খানের বোন ও ভগ্নিপতিকে আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, সোমবার দুপুরে স্থানীয় লাটের বাজারে ওবায়দুলকে অনেকেই দেখেছেন। তবে রাতে পুলিশি অভিযানের পর খুনের ঘটনা জানাজানি হয়। তার আগেই পালিয়ে যায় ওবায়দুল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তার বোন খাদিজা বেগম ও ভগ্নিপতি খাদেমুল ইসলামকে আটক করেছে।

গত বুধবার পরীক্ষা শেষে স্কুলের সামনের পদচারী-সেতু দিয়ে সড়কের ওপারে যাওয়ার সময় এক বখাটে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়াকে ছুরিকাঘাত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার সুরাইয়া মারা যায়। এ ঘটনায় তার মা তানিয়া হোসেন রমনা থানায় এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্সের একটি দরজির দোকানের কর্মী ওবায়দুল খানকে আসামি করে মামলা করেন।

রিশার মা তানিয়া হোসেন জানান, ৫-৬ মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং মলে বৈশাখী টেইলার্স নামে একটি টেইলার দোকানে জামা বানাতে দেয় রিশা। ওই সময় তার মোবাইল নম্বরটিও দেয়া হয়। এরপর থেকে ওই টেইলার্সের কাটিং মাস্টার ওবায়দুল তার মেয়েকে প্রায়ই ফোন করে উত্ত্যক্ত করত। পরে বাধ্য হয়ে ফোনের ওই সিমটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই ওই কাটিং মাস্টার তার মেয়েকে বিরক্ত করত। স্কুলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।

এদিকে, সন্দেহভাজন হত্যাকারী ওবায়দুল খানকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে কাকরাইল মোড়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধে বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। আগামী ১ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

ওবায়দুলের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে। তাঁর বাবা মৃত আবদুস সামাদ।

অন্যদিকে, রিশার বাবার নাম মো. রমজান আলী। তিনি একজন ক্যাবল ব্যবসায়ী। রাজধানীর বংশালে তারা বাস করেন।

You Might Also Like