কেরি সাহেব আবেগই উজ্জীবিত করে গেলেন !

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। বাংলাদেশে ৮ ঘণ্টা সফর শেষ করে বিদায় নিয়ে গেলেন। এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ কি নিল আর কি দিল।
কেরি সাহেবের ক্ষণিকের এই সফরকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যেভাবেই দেখার বা দেখাবার চেষ্টা করুন এতে আবেগীয় দিক ছাড়া উজ্জীবিত হবার আর কোন কারণ নেই । এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাকায় নেমে জন কেরি প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। দ্বিতীয় কারণ, বঙ্গবন্ধুর খুনি আমেরিকায় পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কেরির এক ধরনের ইঙ্গিত। তৃতীয় কারণ, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা। জন কেরির সফর নিয়ে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার আলাপ থেকেও এমনটিই প্রকাশ পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা হয়েছে, এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর খুরি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত দেওয়ার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এটি মুজিব আদর্শের সবাইকে উজ্জীবিত করার মতো একটি সংবাদ। এছাড়া ‘জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে পরিদর্শন ও সেখানে রাখা শোক বইতে জন কেরির বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে অনূভুতি ব্যক্ত করা আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে’ এই আবেগের যায়গা থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় সরকার ও জনগণ উজ্জীবিত হতেই পারে। শোক বইতে এক জায়গায় কেরি লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের মাঝ থেকে একজন প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে যে নৃশংসতায় সরানো হয়েছে, তাদের প্রতি ক্ষোভ। একইসঙ্গে কেরি লিখেছেন, সহিংস ও কাপুরুষোচিতভাবে বাংলাদেশের জনগণের মাঝ থেকে এমন প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা। তারপরও বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তারই কন্যার নেতৃত্বে। যুক্তরাষ্ট্র তার সেই স্বপ্ন পূরণে বন্ধু ও সমর্থক হতে পেরে গর্ববোধ করে। আমরা এখন এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চাই এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বঙ্গবন্ধু ভবন পরিদর্শন করার পর অভিভূত হয়ে পড়েছেন বলে জানান কেরি। তার এমন মন্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষভাবে সুখের খবর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অভিভূত করেছে। ওই সূত্রটি জানায়, সোমবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও জন কেরির বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণা করা হয়েছে কয়েক মিনিট। এ সময় জন কেরি জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে তিনি অভিভূত হয়েছেন। পাশাপাশি স্বজন হারানোর ব্যথায় শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরি নিজেও যে ব্যথিত, তা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা যখন বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত চেয়েছেন, তখন কেরি বলেছেন, এটি আমেরিকার সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে। যদি এই বক্তব্যকে কূটতিক শিষ্টাচার হিসেবে না হয়ে সত্যিই তাই হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এ ইস্যু অনেকখানই এগিয়েছে। আওয়ামী লীগের জন্যে নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার ঘোষণা একটি বড় ঘটনা।’
আবেগের বিবেচনায় আর একটি দিক হলো- এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কোনও ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এটিও আওয়ামী লীগের জন্য সুসংবাদ।

You Might Also Like