জন কেরির সফর বাংলাদেশের জন্য আশাজাগানিয়া নয়

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সফর বাংলাদেশের জন্য তেমন আশাজাগানিয়া হবে বলে মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর সফল হয়নি। তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লিনটনকে জানিয়ে দেন, ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ না করে বিদেশে গ্যাস রপ্তানি করা হবে না। খুশি হননি ক্লিনটন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ মনে করেন পরের বার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে পারেননি শুধু গ্যাস রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ায়। এরপর হাসিনা আবারও ক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে আসেন ২০১২ সালে। এবারেও বিবাদ গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে। ড. ইউনূসকে কোনো সুবিধা দিতে পারলেন না তিনি। বাংলাদেশও তেমন কোনো উপকৃত হয়নি তার সফরে। উল্টো বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়। এবার মাত্র ১০ ঘণ্টার সফরে বাংলাদেশ আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এরপরই চলে যাবেন ভারতে।
সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। ডেমোক্র্যাট দলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির শেষ সময়ের এ সফর খুব একটা আশাজাগানিয়া নয়। গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন কেরির সফর নিয়ে খুবএকটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। অনেকটা সাদামাটাভাবেই বলেছেন, উনি আসুক দেখি কী বলে, তারপর না হয় আপনাদের জানাব।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট জন কেরির সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুটা বলেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়। বার্নিকাটের এ বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এবারও কেরির সঙ্গে আসলে বনিবনা হচ্ছে না শেখ হাসিনার।
কারণ, এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বললেও বাংলাদেশ তেমন একটি সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে বলা যায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এরইমধ্যে নিজেই অনেক সাফল্য দেখিয়েছে। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রসবর্ডার জঙ্গি দমনেও বাংলাদেশ সফল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে জঙ্গি দমন তেমন পাত্তা পাবে না বলেই মনে হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ যে প্রস্তাব রাখতে চায় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গড়িমসি রয়েছে। যেমনÑ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড’র পলাতক খুনিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর, পোশাকশিল্পের শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান। এ দুটি ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা অগ্রসর হবে না।
জন কেরি ঢাকায় অবস্থানকালে একটি পাঁচতারকা হোটেলে কিছু সময়ের জন্য উঠতে পারেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে থাকবেন। এরমধ্যেই তিনি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর ফাঁকে সুশীল সমাজের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। এরপর তিনি সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। ৩০ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি সংলাপে অংশ নেবেন।

You Might Also Like