জিয়া ‘মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, নইলে ওরেও আসামি করতাম’

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান  জিয়াউর রহমানকে আবারও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জীবিত থাকলে তাকেও আসামি করা হত। ২জুন সোমবার  গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় দলের যৌথসভায় ১৯৭৫ সালে খোন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়ার ভূমিকা তুলে ধরে একথা বলেন তিনি। হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক, জিয়াকে সে সেনাপ্রধান করে। মোশতাক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, তার মানে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততা আছে।“মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, নইলে ওরেও আসামি করতাম। আসামি করতাম, এটাই পরিষ্কার কথা।”

১৯৭৫ সালে প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক পর্যায়ে ক্ষমতায় আসা জিয়া ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে মারা যান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে ‘তাঁবেদার’ রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত শুরু করেছিল মন্তব্য করে এর ‘হোতা’ হিসেবে জিয়ার নাম বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা হাসিনা। “মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের জিয়াউর রহমান ধরে ধরে হত্যা করেছে। ’৭৫ এর পর আওয়ামী লীগ নেতাদের জেলে পুরে রেখেছিল। কত আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করেছে”

জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেয়ার পর কিছুদিন পর পর ক্যু হত আর মানুষ মারা যেত, বলেন তিনি।

জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলের সমালোচনাও করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা।

“হাওয়া ভবনের চাঁদা না দিয়ে তখন ব্যবসা করার কোনো উপায় ছিল না। মায়ের ভাগ, পুতের ভাগ এবং মায়ের এক প্রিয় ব্যক্তির ভাগ।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনাকারী বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ‘ধ্বংস’ করে গেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সরকার আমলের চিত্র তার বিপরীত বলে দাবি করেন তিনি। “ব্যবসায়ীরা এখন ব্যবসা করতে পারছে। হাওয়া ভবনের পাওনা এখন বোঝাতে হচ্ছে না।”

রাজনীতির পর অর্থনীতির বিষয়াদি ধরে সরকারের সমলোচনার জবাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি অর্জিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “অনেক চিন্তাবিদ এর সাথে রাজি না, ওনারা ৬ ভাগের ওপর প্রবৃদ্ধি মানে না।“কারণ, ওনারা কেয়ারটেকারের টেক কেয়ারে ছিলেন। অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক সরকার আসলেই স্যুট-বুট বের করে রেডি।”

“এত ভালো কাজ করছি। তারা শুধু ছিদ্র খোঁজে,” বলেন হাসিনা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে টেলিভিশন আলোচনা অনুষ্ঠানে সরকারের সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

“টক শো-গুলো দেখলেই পারেন। মনের মাধুরী মিশিয়ে কথা বলা হচ্ছে। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে এখনো কিছু বলতে পারে? এখনো ভয়, যদি আবার এসে মারে।”

আগামী বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে এই যৌথসভার আয়োজন করা হয়। বাজেট নিয়ে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হেয় করতে পদ্মা সেতু নিয়ে চন্ত্রান্ত হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা পদ্মা ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। চক্রান্তকারীরা সফল হয়নি, ব্যর্থ হয়েছে।”

You Might Also Like