সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের হাতে ভিক্ষার ঝুলি

রাসেল (২০)। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তার শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ ঝলসে গেছে। চোখের সামনে মা থাকলেও মন ভরে ডাকতে পারছেন না তিনি। সন্তানের এই কষ্ট-যন্ত্রণা সইতে না পেরে চিকিৎসার টাকা যোগাড়ে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়েছেন মা আমেনা বেগম (৪৬)।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাসেল। সন্তানকে বাঁচাতে হাসপাতালটির সামনেই ভিক্ষা করছেন মা আমেনা।

তিনি জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করে রাসেলের আয়ে ভালোই চলছিলো তাদের সংসার। কিন্তু গত দুই মাস আগে কাজের সময় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন রাসেল। তখন সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

আমেনা বেগম জানান, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। ছয় ছেলেসহ মোট আটজনের পরিবার। স্বামী সিকান্দার(৫৬) মেরুদণ্ডের রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও চিকিৎসাধীন। এ সময় ছেলের এ বিপদে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, সন্তানকে বাঁচাতে মানুষের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনও সুস্থ হয়ে ওঠেননি রাসেল। একদিকে মানুষের সুদের টাকা পরিশোধ, অন্যদিকে সন্তানের চিকিৎসা। সব মিলিয়ে তার ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আমেনা বেগমের সঙ্গে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ৪র্থ তলায় গিয়ে দেখা গেছে, বারান্দার একটি বেডে শুয়ে দুর্বিষহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন রাসেল। কথা বলতে পারছেন না, যন্ত্রণায় বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে না পারায় তার মুখ, গলা, বুক ও পেটে ইনফেকশন হয়ে পচন ধরেছে। তাই তাকে বাঁচাতে আবারও সার্জারি করতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ডাক্তাররা জানান, হাসপাতালের ওষুধ ছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৫/৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে রাসেলের। সামর্থ্য না থাকায় পর্যাপ্ত ওষুধ খেতে না পারায় তার শরীরের অধিকাংশ স্থানে পচন ধরেছে।

রোববার (২৪ জুলাই) ডাক্তাররা বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, কবে আবার রাসেলের সার্জারি করা হবে। তবে ডাক্তাররাও এই মুহূর্তে বলতে পারছেন না যে, কতো টাকা তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন। শুধু এতোটুকুই বলছেন, বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

এ অর্থের যোগান দেওয়া মা আমেনা বেগমের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সন্তানকে বাঁচাতে দেশের সকল বিত্তবান মানুষকে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাসেলকে বাঁচাতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ইউসুফ আলী। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আমেনা বেগমকে ভিক্ষা করতে দেখি। তখন তিনি সন্তানকে বাঁচাতে আমার কাছে সাহাষ্য চান। তখন আমি রাসেলকে দেখতে যাই এবং দেখার পরে আমি তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। সমাজের যারা বিত্তবান আছেন, তাদের একটু সহযোগিতা পেলেই হয়তো বা আবার নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন রাসেল’।

তবে আমেনা বেগম বা রাসেলের কোনো মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাই যারা স্বেচ্ছায় রাসেলকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে চান, তারা ইউসুফ আলীর ০১৯১৪-৮৫৪৮৯০ (বিকাশ) নম্বরে সাহায্য পাঠাতে পারেন বা যোগাযোগ করতে পারেন।

You Might Also Like