ভাল্লুকদের নৃশংস থাবায় এবার আফসানা!

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের তনুর পর এবার মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় অবস্থিত সাইক পলিকেটকনিক ইনস্টিটিউটের অফসানা ফেরদৌস। তনু ভাল্লুকের তাড়ায় মৃত্যু বরণ করলেও আফসানার ব্যাপারে অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংঘবদ্ধ হায়েনাগোষ্ঠী মেয়েটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যারা এদেশে বর্বরোচিত গণধর্ষণ চালিয়েছিল, তাদের চেয়েও আজকের সমাজে বেড়ে ওঠা ধর্ষকদল বেশি নৃশংস-পাশবিক। পাকিস্তানী বর্বরগোষ্ঠী ধর্ষণ করেছে বটে কিন্তু তারা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে খুব কম কিন্তু বর্তমান সময়ের অসভ্য-জানোয়াগুলো ধর্ষণ করেই নৃশংসভাবে ধর্ষিতাকে হত্যা করে। মেধাবী তরুণী আফসানা ফেরদাউসকে উপর্যুপুরি ধর্ষণের পর, যে অমানবিক নির্যাতনের চিহ্ন-ক্ষত মেয়েটি গলা-দেহে স্পষ্ট রয়েছে, তা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না। রাস্তার কুকুর কিংবা বন্য হিংস্র ভাল্লুকের দ্বারাই বোধহয় এসব সম্ভব! মাঝে মাঝে সংশয় হয়, কুকুর-ভাল্লুকগুলো ইতর-জানোয়ার শ্রেণীর হলেও, সেগুলো কি মানুষের মত এমন জঘণ্য হতে পারে?
….
ঠাকুরগাঁয়ের মাত্র ২৪ বছরের মেয়েটির চোখে-মুখে কত-ই না স্বপ্ন ছিলো। ভাইকে ফোন করে জানিয়েছিল, বকরার ঈদের আগেই বাড়িতে ফিরবে। ভাইয়ের কাছে আব্দার করে বলেছিলো, সবার সাথে কোরবানীর পশুর হাটে গিয়ে পছন্দ করে পশু কিনবে। পশুর গলায় মালা পড়িয়ে সবাই একসাথে আনন্দ করতে করতে বাসায় হেঁটে আসবে। ১২ আগষ্ট রাতে যে মেয়েটি এত সব আশা-স্বপ্নের কথা ভাইকে জানালো সেই ভাই ১৬ আগষ্ট রাতে বোনের লাশ দেখলো। মৃত্যু নিয়তির অমোঘ বিধান। তাই বলে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়ার সাধ্য আছে কার? তবুও মেনে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই কেননা যে রাষ্ট্রে ভাল্লুকদের জন্ম হয়, চাষ হয়, বেড়ে উঠতে সাহায্য করা হয়, অপরাধ করার পরেও তাকে আড়ালে থাকার সুযোগ দেয়া হয় সেদেশে ভাল্লুকদের আক্রমনে তনু-আফসানাদের স্বপ্ন মুকুলে ঝড়ে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। হায়েনাসম ভাল্লুক মুক্ত একটি সমাজ গঠনের অধিকার বোধহয় আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
…..
আফসানার হত্যাকারীরা এখন অবধি চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। আফসানার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব থেকে কিছু মানুষকে সন্দেহ করা হচ্ছে। আমাদের জীবিত আফসানাদের মঙ্গলার্থে ভাল্লুকদের শাস্তি হওয়া জরুরী। কেননা তনু-আফসানারা আমাদের বোন, কন্যা, স্ত্রী কিংবা মা। আফসানাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া রাষ্ট্র এবং আমাদের যৌথ দায়িত্ব। হায়েনাদের কবল থেকে আফসানাদের সম্ভ্রম-জীবন রক্ষা করতে না পারলে, আমরা তাদের কোন সম্পর্কীয় ভাই? যদি চুপ করে থাকি তবে ভাই হিসেবে তনু-আফসানাদের কাছ থেকে প্রতিমুহুর্তে অর্থবতা-কাপুরুষতার ধিক্কার শুনবো। আইনের হাত আরও সম্প্রসারিত হয়ে ভাল্লুকদের নখগুলো যেন চিরতরে কেঁটে-ছেঁটে দেয়া হয়। ভাল্লুকদের নখগুলো বড় বেশি বাড়ন্ত হয়েছে। গতদিন তনু, আজ আফসনা কিংবা আগামীকাল অন্য কেউ ভাল্লুকদের শিকার হবেই। কেননা ভাল্লুকগুলো শিকারের লোভে সর্বত্র ওঁৎ পেতে আছে। আফসনারা যেভাবে নিরাপদে থাকতে চায় তেমনি আমরা আমাদের বোন-মা-স্ত্রী-কন্যাদের নিরাপদে রাখতে চাই। অনুগ্রহপূর্বক একটু ব্যবস্থা হোক। অন্তত বেঁচে থাকার নিরাপত্তাটুকু যেন আফসানাদের কপালে জোটে। দেশের এত অপরাধী ক্রসফায়ারে পরপারে যায় কিন্তু ভাল্লুকরা কোন শক্তির ছত্র-ছায়ায় রক্ষা পায়? ভাল্লুকদের ভালেও ক্রসফায়ারের রেখা এঁকে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। যতশীঘ্র সম্ভব ততশীঘ্র হোক। সমাজ, মানবতা ও মানুষ রক্ষা পাবে তবে।
….
রাজু আহমেদ : কলামিষ্ট
fb.com/rajucolumnist/

You Might Also Like