র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা চলবে

চট্টগ্রামের তালসরা দরবার শরীফে দুই কোটির বেশি টাকা ডাকাতির অভিযোগে হওয়া মামলা বাতিল চেয়ে র‌্যাব-৭ এর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (বরখাস্তকৃত) শেখ মাহমুদুল হাসানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। এর ফলে র‌্যাবের চার কর্মকর্তাসহ মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা চলবে বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবীরা।

আদালতে দরবার শরীফের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ এনাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এম এ মান্নান মোহন।

পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার এনাম সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় সাত আসামির মধ্যে র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার আলী আগে মামলা বাতিলের আবেদন করেছিলেন। ২০১৫ বছর ১১ মার্চ সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ। এবার শেখ মাহমুদুল হাসানের আবেদন খারিজ হওয়ায় সাত আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে বাধা নেই।

এই ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৭ আসামি হলেন, র‌্যাব-৭ এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার আলী, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শেখ মাহমুদুল হাসান, সুবেদার আবুল বাশার, এসআই তরুণ কুমার বসু এবং র‌্যাবের সোর্স দিদারুল আলম, আনেয়ার মিয়া ও মানত বড়ুয়া। র‌্যাবের কর্মকর্তারা বরখাস্ত আছেন। একইসঙ্গে আসামিরা সবাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর তালসরা দরবার শরিফে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে তল্লাশি করে। এই ঘটনায় ২০১২ সালের ১৩ মার্চ র‌্যাবসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৭ হাজার টাকা লুটের অভিযোগে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়।

মামলাটি করেন দরবারের পীরের গাড়ি চালক ইদ্রিস আলী। এ ঘটনা পরে জানাজানি হলে র‌্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে টাকা লুটের ঘটনায় র্যাব সদস্যদের যুক্ত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ আসার পর তাদের স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হলেও ২০১২ সালের ২৫ জুলাই সাতজনের নামে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার আগেই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন।

You Might Also Like