২০১৫ সালে ক্লিনটন দম্পতির আয় ১ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তার স্বামী বিল ক্লিনটন ২০১৫ সালে যৌথভাবে আয় করেন প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার। হিলারির জমা দেওয়া আয়কর হিসাব থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আয়কর হিসাবে বলা হয়েছে, ক্লিনটন দম্পতি ২০১৫ সালে যৌথভাবে ১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার (১০.৬ মিলিয়ন ডলার) আয় করেন। এই আয়ের বেশির ভাগ বিল ক্লিনটনের। তবে হিলারি গত বছর আয় করেন ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। স্মৃতিকথামূলক বই ‘হার্ড চয়েসেস’-এর বিক্রি থেকে এ পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন তিনি। আর বিল ক্লিনটনের আয় এসেছে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দেওয়ার বক্তব্যের ফি থেকে।

ক্লিনটন দম্পতি তাদের আয় থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ হারে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার আয়কর দিয়েছেন। প্রদত্ত আয়কর নিয়ে এখনো প্রশ্ন ওঠেনি।

হিলারির সঙ্গে আয়কর হিসাব জমা দিয়েছেন তার রানিংমেট (ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী) টিম কাইন। ২০১৫ সালে কাইন ও তার স্ত্রী অ্যান হল্ট আয় করেন ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ মার্কিন ডলার। তারাও সরকার নির্ধারিত হারে আয়কর দিয়েছেন।

এদিকে হিলারি ও রানিংমেট শুক্রবার আয়কর প্রকাশ করলেও প্রতিপক্ষের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো আয়কর জমা দেননি। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার আয়করের হিসাব নিরীক্ষা করছে সরকারের অডিট বিভাগ। ফলে তা শেষ হলেই কেবল জনগণের সামনে তুলে ধরনের তার আয়কর হিসাব।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গত ৫৬ বছরের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে সব প্রার্থীই আয়কর রিটার্ন দাখিল করে থাকেন। কিন্তু ট্রাম্প এখনো গড়িমসি করছেন। শেষ পর্যন্ত যদি আয়কর রিটার্ন জমা না দেন, তবে উল্লিখিত সময়ে তিনিই হবেন এ ধরনের প্রথম কোনো প্রার্থী।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের ঘোষিত নিয়ে গরমিল রয়েছে, সম্ভবত সে কারণেই তিনি আয়কর হিসাব জমা দিতে দেরি করছেন। অথবা ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক বলে নিজেকে ঘোষণা দেওয়া ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ হয়তো আরো কম অথবা অন্য কিছু। যদি আয়কর হিসাব জমা দেন, তাহলে এসব সত্য মানুষের সামনে চলে আসবে- এ ভয় থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছেন। হিলারির একজন মুখপাত্রও দাবি করেছেন, ট্রাম্পের আয়করের হিসাব হয়তো ঠিক নেই।

নির্বাচনের আগে আয়কর হিসাব জমা দেওয়া প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু কর ফাঁকি দেওয়া না-দেওয়ার বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার করতে তারা আয়কর হিসাব জমা দিয়ে থাকেন।

You Might Also Like