জঙ্গিবাদ রোধে মা-বাবার দায়িত্ব

ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী :

সাইফুল ইসলাম। ফোনে পরিচয় দিল, এলাকার ছেলে। তার বাবা নূর আলম মাস্টার আমার বাল্যবন্ধু। বলল, সে আইটি ইঞ্জিনিয়ার। চাকরির পাশাপাশি ঢাকায় নিজে একটি ফার্ম খুলেছে। এলাকার ছেলেদের ফোন পেলে মনে করি, হয়তো কারও মৃত্যুসংবাদ বা পারিবারিক-সামাজিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত পাব। কোথাও সুপারিশ বা তদবিরের জন্য কেউ বলে না। কারণ, আমার আওতা সম্পর্কে প্রায় সবাই জানে। আলাপচারিতায় সাইফুল জানাল, তার বাবা ইন্তেকালের সময় বলে গেছেন, আমার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, এজন্যই তার ফোন করা। এত ভালো লাগল যে, তা আমার লেখায় স্থান দিলাম। নবীজি বলেছেন, ‘সর্বাপেক্ষা বড় সৎকাজ হলো কোনো ব্যক্তির বাবার বন্ধুদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’ (মুসলিম)। দেশ এখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ত্রাসের কবলে। বলা হচ্ছে, মা-বাবা, পরিবারের সঙ্গে তরুণদের সম্পর্কের অবনতিই এর জন্য দায়ী। এ অবস্থায় সাইফুল ইসলামের মতো ছেলেরা নিশ্চয়ই ব্যতিক্রম এবং সমাজের জন্য প্রেরণাদায়ক।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় যে ভয়াবহ চিত্রটি ফুটে উঠেছে তা হলো, সমাজে যাদের সুখী ও অভিজাত মনে করা হয়, তাদের সন্তানরা ধর্মীয় উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এর আগে সমস্যাটি ছিল অন্যরকম এবং তার ভয়াবহতা কোনো অংশে কম নয়। হেরোইন, ইয়াবাসহ রকমারি মাদকের এমন কোনো ব্রান্ড নেই, যার ছোবলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের কবলে পতিত হচ্ছে না। বছর দুয়েক আগে পুলিশ দম্পতির ছোট্ট মেয়ে ঐশী যে নিষ্ঠুর পন্থায় তার মা-বাবাকে হত্যা করল, যা গোটা জাতির জন্য ছিল লোমহর্ষক। তবে কোনো সমস্যায় কিছু দিন মাতামাতি, লেখালেখির পর ভুলে যাওয়ার মতো আমরা যেন এসব ভুলেই গেছি।
ছেলেমেয়েরা অর্থের লোভে এ পথে পা বাড়াচ্ছে, এমন কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। কেননা, সমাজের ওপর তলার সন্তান, যারা অভাব বা আর্থিক সংকট বলে কিছুর সঙ্গে পরিচিত নয়, তারাই তো এসব ধ্বংসের পথ বেছে নিচ্ছে। বরং সমস্যার মূল কারণ আদর্শিক ও চিন্তাধারার ভ্রান্তি। তবে সমস্যা সমাধানের পন্থা হিসেবে যে বিষয়টির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে তা হলো, মা-বাবা, পরিবার, নিজস্ব সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বন্ধন নিবিড় করতে হবে।
বাস্তবতা হচ্ছে, আদর্শিক শূন্যতার অভাবে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে পরিবারের দূরত্বটা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। একটু বড় হওয়ার পর ছেলেমেয়েরা যখন মা-বাবার জীবনযাত্রা, পারস্পরিক সম্পর্ক, আয়-উপার্জন, চরিত্র ও মনের স্বচ্ছতা প্রভৃতি বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে তখন শ্রদ্ধাবোধের পরিবর্তে তাদের মনে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ জন্ম নেয়। সে ক্ষোভই তাদের নিয়ে যায় হতাশায়, মাদকের মৃৃত্যুকূপে বা জঙ্গিবাদের কবলে।
পরিবারের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের সম্পর্ক অটুট রাখতে আমাদের সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে পাথেয় জোগাড় করতে হবে। মা-বাবা, ছেলে-সন্তান কার কী দায়িত্ব তা নিরূপণ করতে হবে এখান থেকেই এবং এর নিরিখেই সবার মনমানসিকতার পরিচর্যা করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার প্রভাবে দীর্ঘদিন থেকে আমাদের সমাজে একটি লালিত বিশ্বাস হচ্ছে, ‘মা-বাবার পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’ এ বিশ্বাসে বড় হওয়া গরিব ঘরের ছেলেদেরও দেখা যায়, বিদেশে গিয়ে গতর খেটে প্রথম দায়িত্ব মনে করে মা-বাবার খেদমত করা, যেভাবেই হোক তাদের হজ করানো। এ শিক্ষা ও মূল্যবোধের কারণেই আমাদের বৃদ্ধদের শেষ বয়সে বৃদ্ধ সদনে ধুঁকে ধুঁকে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না; বরং বউ-ঝি, নাতি-নাতনি বেষ্টিত দুঃখের সংসারেও বেহেশতি সুখের উষ্ণতা অনুভব করতে পারে।
দুঃখজনক হলো, অভিজাত পরিবারগুলো এরূপ ধর্মীয় আবহ বা মূল্যবোধে সন্তানদের গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেকে ছেলেমেয়েদের জন্য অঢেল অর্থ ঢালেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে নিবিড় স্নেহ-মমতার সম্পর্ক গড়তে কীসের যেন বাধা। সন্তান বড় হলে ব্যতিক্রম কিছু দেখলে এমন বকাঝকা ও আচরণ করেন, যা কোনো প্রতিপক্ষ বা শত্রুর সঙ্গেই মানায়। অথচ আমাদের ধর্মের শিক্ষা হচ্ছে, মায়ের কোল থেকেই সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে মধুর। আমি একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব, থেকে যাবে আমার অস্তিত্বের অংশ, আমার সন্তানরাÑ এ চেতনা নিয়ে ছেলেমেয়েদের তিলে তিলে গড়ে তুলতে হবে।
মদিনার জীবনে মহানবী (সা.) এর ছোট্ট ছেলের নাম ছিল ইবরাহিম। মাত্র ১৮ কী ১৬ মাস বয়সে ইবরাহিম মারা যান। তার মৃত্যুতে নবীজি এমনভাবে কাঁদলেন, যাতে লোকজন প্রশ্ন করে বসল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি না কারও মৃত্যুতে কাঁদতে নিষেধ করেছেন, অথচ আপনি নিজে কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি শোকে বুক চাপড়ে, অস্থিরতায় কান্নার রোল করতে নিষেধ করেছি। আমার এই কান্না, অশ্রু বিসর্জন তো আল্লাহর রহমত। তিনি ধাত্রী মায়ের কাছে শিশু ইবরাহিমকে দেখতে যেতেন আর কোলে নিয়ে চুমো দিতেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন মহানবী (সা.) নাতি হাসান ইবনে আলীকে কোলে নিয়ে চুমো দেন (আল্লাহর মহান পয়গম্বর এত ছোট্ট কাজটি করলেন)। পাশে ছিল আকরা ইবনে হাবেস। আকরা বলল, আমার ১০টি সন্তান আছে। আমি এদের একটিকেও কোনোদিন চুমো দিইনি। নবীজি তার দিকে চোখ তুলে তাকালেন আর বললেন, যে ব্যক্তি দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। (অর্থাৎ তোমার অন্তরে যদি স্নেহমমতা না থাকে তাহলে তুমি আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারবে না)। (বোখারি, মুসলিম)।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আরব বেদুইনদের একটি দল মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে (এখানকার পরিবেশ ও অবস্থা দেখে তারা তো অবাক শেষ পর্যন্ত) জানতে চাইল, আপনারা কি আপনাদের বাচ্চাদের চুমো দেন? নবী করিম (সা.) বললেন, হ্যাঁ। তারা বলল, কিন্তু আমরা আল্লাহর কসম, কখনও বাচ্চাদের চুমো দিই না। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা যদি তোমাদের অন্তরগুলো থেকে রহমত ছিনিয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার করার কী আছে। (বোখারি, মুসলিম)।
নাতি হোসাইনকে বসিয়ে রেখে নবীজি নামাজ পড়ছিলেন। সিজদায় যখন গেলেন, হোসাইন তার কাঁধের ওপর সওয়ার হলো। যতক্ষণ হোসাইন কাঁধের ওপর থেকে না নেমেছেন, আল্লাহর নবী সিজদা থেকে মাথা তোলেননি। এ ধরনের বর্ণনা সিরাতের কিতাবগুলোতে প্রচুর আছে। নবীজি বাস্তব আচরণ দিয়ে উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন, শৈশবে নয়, কৈশোরেও এমন দায়িত্ব পালন করতে হবে মা-বাবার প্রতি। বলেছেন, ‘তোমাদের শিশুদের বয়স যখন সাত বছর হবে তাদের নামাজ পড়ার জন্য বলো। আর যখন ১০ বছর হবে প্রয়োজনে শাসন করো।’ নামাজের আদেশ দিতে হলে অবশ্যই প্রস্তুতি পর্ব শেষ করতে হবে। পবিত্রতা অর্জন, অজু, নামাজের নিয়মকানুন, সূরা-কেরাত প্রভৃতি ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে।
‘যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ নবীজির এ ঘোষণা যদি সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া যায় নিঃসন্দেহে তা তরুণদের বিপথগামিতা ও শিশু নির্যাতন রোধে সমাজের জন্য রক্ষাকবচ হবে। কোরআন মজিদে মা-বাবার প্রতি সদাচরণের জন্য এমন ভাষায় আহ্বান করা হয়েছে, যা যে কারও মর্র্মমূলে প্রবেশ করে। জীবিত বা মরহুম মা-বাবার জন্য যে সংক্ষিপ্ত অথচ প্রাণময় আবেগি দোয়া বাতলে দেয়া হয়েছে, তার চর্চা মসজিদে-মাদরাসায় থাকলেও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই। ‘রাব্বিরহামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা’ ‘হে প্রভু! ছোটবেলায় মা-বাবা যেরূপ স্নেহ-মমতা দিয়ে আমাদের প্রতিপালন করেছেন তাদের প্রতি তোমার সেরূপ দয়ার পরশ দাও।’ (সূরা বনি ইসরাঈল : ২৪)।
মা-বাবা, মুরুব্বিদের প্রতি ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা চর্চা এক সময় আমাদের সমাজে ব্যাপক ছিল। ছোটবেলায় আমরা দেখতাম, বাড়িতে কোনো ভালো খাবার তৈরি হলে ফাতেহা দেয়া হচ্ছে মরহুম মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানির রূহের মাগফিরাত কামনা করে। সমাজের জন্য এর একটি সুফল ছিল, ছোটদের মনে মুরুব্বিদের প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নিত, পারিবারিক বন্ধন মজবুত হতো আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎপথে অবিচল রাখতে এর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু এক ধরনের শুষ্ক ধর্মীয় লু হাওয়া এসে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে এগুলো কেড়ে নিয়েছে এবং বলছে যে, এসব কিছুই বেদাত।
মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক কীভাবে নির্ণীত হবে তার অসংখ্য উদাহরণ কোরআন-হাদিসে আছে। কোরআন মজিদের একটি সূরার নাম লোকমান। লোকমান (আ.) নবী বা রাসুল ছিলেন না। তবে নবীর মর্যাদায় একজন প্রাজ্ঞ নেকবান্দা ছিলেন। সন্তানের প্রতি তার সুন্দর উপদেশগুলো কোরআন মজিদে আল্লাহপাক রেকর্ড করেছেন হৃদয়মথিত ভাষায়। সন্তানের প্রতি বাবার স্নেহমমতা কেমন প্রাণ উজাড় করা হওয়া চাই, তার প্রমাণ হজরত লোকমানের এসব উপদেশ।
আরবিতে ছেলেকে সম্বোধন করা হয় ইবনে বলে। কিন্তু হজরত লোকমানের ভাষা ‘বুনাইয়া’। বুনাইয়া শব্দে স্নেহ ও মমতার অফুরান আমেজ মাখা। বাংলায় এর ভাবার্থ প্রকাশের যথার্থ শব্দ নেই। কোনো মতে অর্থ করা যায়, হে বৎস বা ওহে প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান বলে। আল্লাহপাক বলেন, ‘স্মরণ করো, যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার ছেলেকে বলেছিল, হে বৎস! আল্লাহর কোনো শরিক সাব্যস্ত করো না। নিশ্চয় শিরক চরম জুলুম।’
(এই ফাঁকে মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে আল্লাহপাক আরও বলেন) ‘আমি তো মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ান হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে।’
(মা-বাবা বিধর্মী হলেও তাদের সামনে একান্ত বিনীত ও সহনশীল হতে হবে)। ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করে আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই। তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সৎভাবে এবং যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন করো। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে এবং তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আমি তোমাদের অবহিত করব।’
লোকমান আরও বলেন, ‘হে বৎস! ক্ষুদ্র বস্তুটি যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মাটির নিচে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।’
হে বৎস! নামাজ কায়েম করবে, সৎকর্মের নির্দেশ দেবে আর অসৎকর্মে নিষেধ করবে এবং আপদেবিপদে ধৈর্য ধারণ করবে। এটাই তো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করবে না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
‘তুমি পথ চলো সংযতভাবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো, নিশ্চয় স্বরের মধ্যে গর্দভের স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।’ (সূরা লোকমান : ১৩-১৯)।
আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ও সুন্দরের অনুসারী করে গড়ে তুলতে হলে প্রথমে মা-বাবা ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব চেতনায় তাদের উজ্জীবিত করতে হবে। সেখান থেকেই তাদের মাঝে জন্ম নেবে সমাজ ও আদর্শ রাষ্ট্র চেতনা এবং এ পৃথিবীকে আপন স্রষ্টার অভিপ্রায় অনুযায়ী সাজানোর দায়িত্ববোধ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বস্তরে যদি এ মূল্যবোধের বিস্তার ঘটানো হয়, তা হবে মাদকের সর্বনাশা ছোবল ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপত্র।

You Might Also Like