রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার ৯ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন: আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা ৯টি মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব মামলা শুনানির জন্য আগামী ১০ অক্টোবর পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) দুপুরে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আবদুল্লাহ আবু। আর খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ আমলে নেয়ার দাবি করেন এবং জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে ২৩ ডিসেম্বর উকিল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদারের আদালতে ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী একটি পিটিশন মামলা করেন। এ মামলায় ৩ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। আজ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পূর্বশর্তে জামিন দেয়া হয়।

নাশকতার মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির হরতাল-অবরোধ চলাকালে রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে এ মামলাগুলো দায়ের করে পুলিশ। পরে ২০১৬ সালের মে, জুন মাসের বিভিন্ন তারিখে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এসব মামলায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েকৃত মামলা প্রসঙ্গে তার আইনজীবী ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন, বেগম জিয়া বিরোধীদলের নেত্রী হবার কারণে তাকে হয়রানি ও দমন করার পন্থা হিসেবে নানাবিদ হাস্যকর মামলায় জড়ানো হয়েছে।

দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে এ আইনজীবী বলেন, যেসব মামলায় শেখ হাসিনা নিজেও অভিযুক্ত ছিলেন তা থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অথচ একই মামলা বেগম জিয়ার নামে চালু রাখা হয়েছে অন্যায়ভাবে।

উল্লেখ্য, আজ মোট ১২ টি মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গনে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবা জানান, নয়টি মামলায় জামিন পাবার পর খালেদা জিয়া নাইকো দুর্নীতি ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির দুর্নীতির মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অংশ নিতে যান।

You Might Also Like