মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাখাওয়াতের ফাঁসি, ৭ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের প্রাক্তন এমপি সাখাওয়াত হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অপর সাত আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়ছে।

বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। গতকাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। সাখাওয়াতসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনিত পাঁচটি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. বিল্লাল হোসেন (৭৫), মো. ইব্রাহিম হোসেন (৬০), শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান (৬১), মো. আ. আজিজ সরদার (৬৫), আ. আজিজ সরদার (৬৬), কাজী ওহিদুল ইসলাম (৬১), আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৮)। রায় পড়ার সময় সাখাওয়াত হোসেন ও বিল্লাল হোসেন কাঠগড়ায় ছিলেন।

গত ১৪ জুলাই উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরে ২৩ ডিসেম্বর এই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১৫ সালের ১৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাচঁ অভিযোগ আনেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ১৬ জুন সাখাওয়াতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে আদালত আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ১ এপ্রিল থেকে এ মামলায় তদন্ত শুরু করে গত বছরের ১৪ জুন শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান।

১৯৯১ সালে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে সাখাওয়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

You Might Also Like