গ্রেনেড হামলার আসামি পিন্টু ফের বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফের নির্বাচিত হয়েছেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি সাবেক শিক্ষা ও তথ্য উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যানের একজন তিনি।

শুধু পিন্টু কেন! বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কমিটিতে স্থান পাওয়া দু’একজন ছাড়া সবাই কোনো না কোনো মামলার আসামি। তাদের মধ্যে তারেক হাইকোর্টের রায়ে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত। মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতার নামে শতাধিক মামলাও রয়েছে।

শনিবার (০৬ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে দলটির ৫০২ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ১৯ সদস্য বিশিস্ট স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৭৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৫ এবং সাতজন যুগ্ম মহাসচিব রয়েছেন। নতুন কমিটি পিন্টু ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। আগের কমিটিরও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

পিন্টু টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি ছিলেন। বিএনপির আমলে শিক্ষা ও তথ্য উপমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

পিন্টুর ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। এছাড়া পিন্টুর আরেক ছোট ভাই শামসুল আলম তোফা টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার আরেক ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনও ২১ আগস্ট মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে বিদেশে পলাতক অবস্থায় আছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন আব্দুস সালাম পিন্টু।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকালের আমলে ২০০৮ সালের ২৯ জানুয়ারি গ্রেফতার হন পিন্টু। সেই থেকে প্রায় সাড়ে ৯ বছর ধরে কারাগারে আটক আছেন। আর দীর্ঘ সময় কারাগারে আটক থাকায় দলে নিষ্ক্রিয় তিনি।

কাউন্সিলে পদ হারাবেন বিএনপির নিস্ক্রিয় নেতারা, নিস্ক্রিয়দের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছেন খালেদা জিয়া কিংবা নতুন কমিটিতে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, ঢেলে সাজানো হবে বিএনপিকে- কাউন্সিলের আগে ও পরে এমন কথা প্রায়ই শোনা গেলেও বাস্তবে ঘোষিত কমিটির সঙ্গে এসবের কোনো মিল নেই।

সেই পুরনো ও প্রবীণদের প্রতিই শেষ পর্যন্ত আস্থা রেখেছেন খালেদা জিয়া। কাউন্সিলের পরে দলে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করছিলেন নেতাকর্মীরা। এর ফলে সে আশাও পূরণ হয়নি।

You Might Also Like