ব্লগার ও জঙ্গি উভয়েই সমাজ ও মানবতার ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ‘ব্লগার ও জঙ্গি উভয়েই সমাজ ও মানবতার ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। ব্লগাররা ইসলামকে তাদের মুক্তচিন্তার বিষয় বানিয়ে লেখনীর মাধ্যমে আর জঙ্গিরা মানুষ হত্যা করে এই কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের বিপথগামী করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন : কমিউনিটি পুলিশিং ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ ইসলামের সমস্যা না, বৈশ্বিক সমস্যা। সমাজের সব ধর্মের সব মানুষকে এ সমস্যা মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিরা মুসলমান হয়ে মুসলমানকে হত্যা করছে। এটি ইসলামের বিরুদ্ধেও একটা ষড়যন্ত্র। ইহুদি, নাসারা এই ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আইজিপি বলেন, তরুণদের অন্য একটি অংশ মুক্তচিন্তার অনুশীলন করছে। মুক্ত চিন্তা ভালো। তবে অতিরিক্ত মুক্তচিন্তা করতে গিয়ে তারাও বিপদ ডেকে আনছে। ধর্মকে, ইসলামকে তারা তাদের মুক্তচিন্তার বিষয় হিসেবে নিয়ে তা বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে ধর্মের বিরুদ্ধে এবং নবীজীর (সা.) বিরুদ্ধে যেভাবে কটূক্তি, কদাচার করছে যেগুলো ভাষায়ও প্রকাশ করা যায় না।’

বয়োজ্যেষ্ঠরাই জঙ্গিবাদের দিকে তরুণদের ঠেলে দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে শহীদুল হক বলেন, ‘শায়খ আব্দুর রহমান কিন্তু তরুণ ছিলেন না, বাংলা ভাই ও মুফতি হান্নানও তরুণ নন। তারাই বিপথে টেনেছিলেন তরুণদের। সরাসরি জান্নাতের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের জঙ্গিবাদে নেয়া হচ্ছে।’

জঙ্গিরা কোনও তথ্য দিতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি। তারা খেলাফত কায়েম করতে চায়। তারা মানুষের সৃষ্টি সংবিধান মানে না। তাদের জিহাদ করতে হবে। তারা মুরতাদ, মুশরেক, মুনাফেক ও কাফেরের বিরুদ্ধে জেহাদ করবে। তারা সবাইকে এই কাতারে নিয়ে আসছে। যে ধর্ম পালন করে, পরকালে বিশ্বাস করে, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে তাদেরও তারা কাফের বানাচ্ছে। তারা তাবলিগকেও মুনাফেক বলছে। এখন এদেরকে বলা হচ্ছে এই চার শ্রেণির মানুষকে হত্যা কর তাহলে এটা হবে জিহাদ। আর জিহাদ করে যদি তোমার মৃত্যু হয় তুমি সরাসরি জান্নাত যাবে। তোমার কোনও বিচার নেই। এই জান্নাতের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের জিহাদি বানানো হচ্ছে।এভাবেই তারা মুসলমানদেরও হত্যা করছে।’

আইজিপি বলেন, ‘যারা তাদের বোঝাচ্ছে তারা এসব তরুণদের হিপনোটাইজ (মোহাবিষ্ট) করে ফেলেছে। যখন তারা গ্রেফতার হয় তখন তারা আর বাঁচতে চায় না। তারা বলে, আমাদের মেরে ফেলেন। তারা বলে আমরা বেহেস্তে যাবো, আপনারা জাহান্নামে যাবেন। ওদের এই যে মোটিভেশন, সে জায়গায় আমাদের কাজ করতে হবে। একবার মোটিভেটেড হলে আর ফেরানো যায় না। এজন্য আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের আবেগের সম্পর্ক বজায় রেখে তীক্ষ্ম নজর রাখতে হবে। সন্তান সারাদিন কম্পিউটারে কী করে তাও খেয়াল রাখতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘গুলশান ঘটনার পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। যে মহল আমাদের তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম শামীম চৌধুরী প্রমুখ।

You Might Also Like