রিজভীকে হয়রানি করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা : বিএনপি

বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে যে মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, সেখানে প্রাথমিক তথ্যে তার নাম না থাকলেও পরবর্তী সময়ে ‘হয়রানির উদ্দেশ্যে’ চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বুুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপিকে নির্মূল করতেই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে মামলাটিতে রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, ওই মামলায় এফআইআরে নাম ছিল না। পরে চার্জশিটে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য রাজনৈতিক হয়রানি করা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রিজভী বেশ কয়েকটি মামলায় জামিনে আছেন। এই মামলাও হাজির হওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেছেন। আমরা সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা সবাই কোর্টে যাচ্ছেন, হাজিরা দিচ্ছেন।’

বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা রিজভীকে গ্রেপ্তার করে দলের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘রিজভী নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। তাকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন কেন? কারণ, তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যেন এ দায়িত্ব পালন করতে না পারেন সেজন্য মিথ্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে বিএনপির আরেকটি ক্ষতি করা।’

বর্তমানে জনগণ একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকার ভিন্ন মোড়কে একদলীয় শাসন বাস্তবায়ন করাতে চায়। এটা আমাদের জন্য দু:র্ভাগ্যজনক।’

বিরোধী দলের রাজনীতিকে অকার্যকর ও নির্মূল করতে সরকার মামলাকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এই জন্য তারা অগণতান্ত্রিক ও অরাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি নেই। তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন গণবিছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এজন্যই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে এক লক্ষাধিক মামলা দিয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্যই হল বিরোধী দলকে একেবারে নি:শেষ করে দেওয়া।’

রিজভী গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি অফিসের স্টাফরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। বুধবারও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে।’ বিএনপির পল্টন অফিস ও গুলশান অফিস আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেড়াও করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন, সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, যুবদলের সহ সভাপতি আব্দুল খালেক, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like