বেগম জিয়া এবং কাদেরের ১০ মিনিটের একান্ত বৈঠক

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়তে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে পাশে পেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়ার শর্ত দিয়েছেন দলটির সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার রাজনৈতিক আদর্শ জানিয়ে তাকে অসম্মান করে কথা বলা হলে জাতীয় ঐক্যে থাকবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে দলের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।

এর আগে রাত ৮টায় বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী স্থায়ী হয়। এরপর খালেদা জিয়া ও কাদের সিদ্দিকী একান্তে ৮-১০ মিনিট কথা বলেছেন। সেখানে আর কেউ ছিলেন না।

এদিকে বৈঠকের বিষয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে শুক্রবার সাড়ে ১১টায় দলের মতিঝিল কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন কাদের সিদ্দিকী।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে কাদের সিদ্দিকী বিএনপি চেয়ারপারসনকে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান করে কথা না বলা এবং বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে জামায়াতকে জোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন তাদের নেতা খালেদা জিয়াকে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা হলে তাদের সঙ্গে আমি রাজনীতি করব না। বঙ্গন্ধুকে নিয়েই আমার রাজনীতি, তাকে নিয়েই যতটুকু রাজনীতি করতে পারি করব। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি।’

ওই সূত্র আরো জানায়, রাজনৈতিক কারণে একে অন্যের বিরোধিতা করলেও কাউকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করা হলে সেটা খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনাই হোক; তিনি সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হবেন না বলেও জানিয়ে দেন।

বৈঠকে খালেদা জিয়া ছাড়াও অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান অবদুল্লাহ আল নোমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও তার স্ত্রী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসরিন সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী ও শফিকুল ইসলাম ছিলেন।

বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে-এই অবস্থা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেক্ষেত্রে গোটা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করা যায়, পরামর্শ নিতে প্রাথমিকভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে খালেদা জিয়া আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা তার আমন্ত্রণ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম। তারা জাতীয় সঙ্কটময় মুহূর্তে এগিয়ে এসেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল জানান, ২০ দলীয় জোটনেত্রী হিসেবে নন, খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন খালেদা জিয়া। যদিও তার জাতীয় ঐক্যের ডাকের বিপরীতে ক্ষমতাসীনরা বলছেন, এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে ১৩ জুলাই বিএনপি নেত্রী তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। পরের দিন ১৪ জুলাই দলের সমর্থক বুদ্ধিজীবী ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের মাধ্যমে দুই বড় জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হলো। এরই ধারাবাহিকতায় গণফোরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সঙ্গেও বৈঠক করবেন বিএনপি নেত্রী। তবে এসব দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য তখনই হতে পারে যখন বিএনপি জামায়াত ছাড়বে-এমন শর্ত দিয়েছে তারা।

You Might Also Like