ড্রোন চালিয়ে এরদোগানের হত্যাচেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তার

শুক্রবার রাতের কথা। তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টাকালে দেশের ক্ষমতা গ্রহণের কথাও ঘোষণা দেয়। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলে নেয় তারা। এ সময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ছিলেন রাজধানী থেকে বহু দূরে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন স্থান মারমারিসের একটি রিসোর্টে। সেখানে তাকে হত্যাচেষ্টা করে বিপদগামী সেনারা।

সেদিন এরদোগানকে হত্যা করার জন্য যে কয়জন সেনা মারমারিস অভিযানে অংশ নিয়েছিল অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে যায়। কিন্তু তুর্কি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ তাদের খোজেঁ মাঠে নামে। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর তারা গোয়েন্দা জালে আটকা পড়ে।

আনাদুলো এজেন্সির খবরে বলা হয়, রবিবার রাতে মুগলা প্রদেশের উলা জেলার সিরিনকয় গ্রামে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে অভিযান চালিয়ে এরদোগানকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ৯ সেনাকে আটক করে দেশটির মিলিটারি পুলিশ।

সোমবার আরো দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ১৫ জুলাই সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় ওই ১১ জন প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ‘অপহরণ ও হত্যা’ করতে চেয়েছিল বলে দাবি করা হয় বলে আনাদুল এজেন্সির খবরে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে মুগলার প্রদেশের গভর্নর আমীর সিসেক বলেন, রবিবার রাতে পলাতক সেনাদের কমান্ডার মেজর সুকরু সেইমেনসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এরপর সোমবর ভোরে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে এরদোগানকে হত্যা চেষ্টায় অংশ নেয়া আরো দুই সেনাসদস্য মোস্তফা সরদার ওজাই এবং মুয়াম্মের গুজুবায়ুককে আটক করা হয়। এর আগে ২৫ জুলাই মারমারিস-মুগলা সড়ক সংলগ্ন একটি কালভার্টের ভেতর থেকে তিনজন পলাতক সদস্যকে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৫ জুলাই রাতে অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্যটন শহর মারমারিসের গ্রান্ড ইয়াজিসি হোটেলে ছিলেন। সেখানে তাকে হত্যা করতে পাঠানো হয়েছিল একদল অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী সেনাকে। এরদোয়ানকে অপহরণের লক্ষ্যে তার হোটেলে হামলা চালিয়েছিল অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া মোট ৩৭ সেনা। তাদের মধ্যে আটক এই ১১ সেনাও ছিল।

You Might Also Like