যেকোনো সময় বন্ধ সিটিসেল

বার বার নোটিশ দেওয়ার পরও বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ না করায় বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে।

এজন্য সিটিসেল গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসি গ্রাহকদের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

রোববার বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের পরিচালক (লাইসেন্সিং) এম এ তালেব হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুসারে, বড় ধরনের সঙ্কটে পড়া বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (সিটিসেল) কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত জুন মাসের শেষ নাগাদ এই অপারেটরের গ্রাহক ছিল মাত্র ৭ লাখ। যা বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের ১ শতাংশেরও কম।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের গ্রাহকগণের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে, বিটিআরসি থেকে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট সিটিসেলের সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্সসহ ৮.৮২ মেগাহার্জ তরঙ্গ নবায়ন করা হয়। লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী তরঙ্গ নবায়ন ফির ২য় ও ৩য় কিস্তির অর্থ নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অদ্যাবধি পরিশোধ করেনি সিটিসেল।

সর্বশেষ সিটিসেলের কাছে ২জি মোবাইল অপারেটর লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট রিনিউয়াল ফির ২য় ও ৩য় কিস্তি বাবদ ২২৯ কোটি টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ১০ কোটি টাকা, বার্ষিক স্পেকট্রাম ফি (২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ প্রায় ২৭ কোটি ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৩ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং (২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ আনুমানিক ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৭২০ টাকা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (২০১১ থেকে ২০১৬ সাল) বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৯২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ টাকা, প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ প্রায় ৩৯ দশমিক ৯২ কোটি টাকা ও বিলম্ব ফি বাবদ প্রায় ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব বকেয়া আছে।
notice
বিটিআরসির সূত্রে আরো জানা যায়, লাইসেন্স নবায়নের পর থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন সময়ে কমিশন থেকে সিটিসেলকে সরকারের বকেয়া রাজস্ব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিটিসিলের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সিটিসিএলের বিভিন্ন সময়ে বকেয়া অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করেনি। এরপরও সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ না করে অপারেশনাল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া লাইসেন্সের শর্তাবলীর পরিপন্থী এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ অবস্থায় বিটিআরসি সিটিসিএলের সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স ও রেডিও কমিনিউকেশনস ইকুইপমেন্ট লাইসেন্স বাতিল করার এখতিয়ার রাখে। কাজেই বিটিআরসি যেকোনো সময় সিটিসিএলের তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই সিটিসিএলের গ্রাহকগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিকল্প সেবা/ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো।

একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব, টেলিযোগাযোগ সেক্টরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় গ্রাহকসহ সংশ্লিষ্ট সবার এ অসুবিধার জন্য বিটিআরসি পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

সিটিসেল গত ৫ বছরে ১০ লাখের বেশি গ্রাহক হারিয়েছে। যা কমতে কমতে জুন মাসে গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখে দাঁড়ায়। বিটিআরসির হিসাবে, জুনের শেষ নাগাদ গ্রাহকের হাতে থাকা মোট মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৩ হাজারের বেশি।

১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক মোটরস। ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

You Might Also Like