৮০০ বন্দি ধারণক্ষমতার কারাগারে ৩৬০০!

এখন সময় ডেস্কঃ কারাগারে বন্দিজীবন মানেই দুর্বিষহ জীবন। তবে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কোসেন শহরের কারাগারে বন্দি মানে জীবন সেখানে শুধু দুর্বিষহ-ই নয়, অসহনীয়ও বটে।

‘কোসেন সিটি জেল’কে বলা হয়ে থাকে ফিলিপাইনের সবচেয়ে জঘন্য কারাগার। কারণ, ৮০০ বন্দি ধারণক্ষমতার এই কারাগারটিতে প্রতিদিন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে ৩৬০০ বন্দিকে। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার ৪ গুণের বেশি মানুষ রয়েছে কারাগারটিতে!

স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হয় এখানে কয়েদিদের। অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার খেতে হয় খাবারের মধ্যে থাকা মরিচা ধরা পেরেক ও মরা তেলাপোকা বাছাই করে। বায়ু চলাচল ও সুপেয় পানি অপর্যাপ্ত।

ফিলিপাইনের রাজধানীতে অবস্থিত কোসেন সিটি জেলে স্থান, পানি, খাদ্যের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে প্রতিদিন অবিশ্রান্ত যুদ্ধ করে কয়েদিদের বেঁচে থাকতে হয়।

২০ জনের জন্য নির্মিত সেলে গাদাগাদি করে থাকতে হয় ১৬০ থেকে ২০০ জনকে! পুরুষরা পালাক্রমে বাস্কেটবল কোর্টের মেঝেতে, সিঁড়িতে, কাঠের পাটাতনের নিচেও ঘুমায়। কারাগারটি ছয় দশক আগে নির্মিত হয়েছিল এবং এখানে সাধারণত আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, এমন কয়েদিদের সংখ্যা বেশি। খাবার রান্নার দায়িত্বে থাকে কয়েদিরাই।
karagr
কারাগারটির এক সাবেক কয়েদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রেমান্ড নারাগ। তিনি সাত বছর কারাগারটিতে ছিলেন। ২০ বছর বয়সে ফিলিপাইনে একটি মিথ্যা খুনের মামলায় তাকে সাত বছর কারাগারটিতে বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছিল। তিনি বলেন, পাঁচজন ধারণক্ষমতার একটি রুমে তিনি ৩০ জনের সঙ্গে ছিলেন, যা আসলে অকল্পনীয়। তিনি শুকনো মাছ খেয়ে ডায়েটিং করে বসবাস করেছিলেন।
রেমান্ড নারাগ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক। কোসেন সিটি জেলের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার লেখা ‘ফ্রিডস অ্যান্ড ডেথ ইনসাইড দ্য সিটি জেল’ (মুক্তি এবং শহরের কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত্যু) নামক বইটিতে তিনি এই কারাগারের করুণ জীবনব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় সাত বছরের অভিজ্ঞতায়, আমি প্রতিটি দিন সেখানে বলা যায় নরকের অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করেছি। পুরুষদের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে গাদাগাদি করে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়, জায়গার এতটাই স্বল্পতা যে, পা মুড়ে পড়ে থাকতে হয়। খাবারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়।’
রেমান্ড নারাগ বলেন, খাবারের পরিমাণ খুবই কম এবং প্রায়ই তাতে মরিচা ধরা পেরেক ও তেলাপোকা থাকলেও তীব্র ক্ষুধার্ত হওয়ায় সে খাবারই খেতে হয় কিংবা অন্যের খাবার চুরি করা লাগে। অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ, অপর্যাপ্ত খাবার, সীমিত সুপেয় পানি সরবরাহ, অত্যধিক গরম পরিবেশ, ঘুমে সমস্যা, রুমে বাতাস চলাচলের অভাবের দরুন অসুস্থতায় ভোগা ও ত্বকের সমস্যা সেখানে খুবই বেশি। অপুষ্টিতে ভোগে অনেকেই।
তিনি বলেন, কোসেন সিটি জেলে প্রতি মাসে দুই থেকে পাঁচজন মানুষ মারা যায় অসুস্থতার কারণে। এই জঘন্য পরিবেশ পুরুষদের বিষণ্ন রাখে সব সময়, ফলে মানসিক সমস্যাতেও ভোগে অনেকে। জায়গাস্বল্পতায় অনেককেই পা মুড়ে ঘুমাতে হয় বলে স্ট্রোকের সমস্যাও হতে পারে।

কীভাবে ফিলিপাইনের কারাগারগুলো সংস্কার করা যেতে পারে, সে বিষয়ে বর্তমানে রেমান্ড নারাগ গবেষণা করছেন। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি সাত বছরের ভয়াবহ স্মৃতিবিজড়িত কোসেন সিটি জেল পরিদর্শনে এসেছিলেন তিনি।

You Might Also Like