যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে দুই গ্রুপের মারামারি, পুলিশের হস্ততক্ষেপ

বিবাদমান দুই গ্রুপের তুমুল মারামারিতে পণ্ড হয়ে গেছে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি বিক্ষোভ সমাবেশ। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একাংশের তোপের মুখে পড়ে সমাবেশস্থল ছেড়ে গেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে দুই পক্ষের এই মারামারিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা।
তারা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এ ধরনের মারামারিতে লিপ্ত হওয়ায় প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাংশের ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহছানুল হক মিলন এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াস আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সোলায়মান ভুইয়া, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জনি প্রমুখ।
অন্যদিকে আরেক অংশের নেতৃত্বে অভিন্ন ইস্যুতে একইস্থানে সমাবেশ করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সহ-সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভুইয়া প্রমুখ।
জানা যায়, এহছানুল হক মিলন ও গিয়াস আহমেদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি একাংশ বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে ইত্যাদি গার্ডেন ডাইভারসিটি প্লাজা সংলগ্ন ইত্যাদি গার্ডেন রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলন শেষ করে তারা ডাইভারসিটি প্লাজায় বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় জিল্লুর রহমান জিল্লুর ও শরাফত হোসেন বাবুর নেতৃত্বাধীন বিএনপির আরেক অংশ পৃথক একটি সংবাদ সম্মেলন করার জন্য একই রেস্টুরেন্টের সামনে আসেন।
এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত এহছানুল হক মিলনকে দেখেই তারা পাল্টা স্লোগান দিতে থাকে। উভয় পক্ষের স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্লোগান, পাল্টা স্লোগান এবং উত্তেজনার একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ থেকে ২৩ জন বিক্ষোভের দিকে তেড়ে গেলেই উভয় গ্রুপের মধ্যে তুমুল মারামারি শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন এহছানুল হক মিলন। উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি, ধাক্কাধাক্কি ও এলোপাতাড়ি কিলঘুষিতে পুরো জ্যাকসন হাইটসে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় ২৫ মিনিটের মত চলে মারামারি। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশকয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় গ্রুপকে স্থান ত্যাগে বাধ্য করে।
এ ঘটনায় জ্যাকসন হাইটস এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) একজন নেতা বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায়ই জ্যাকসন হাইটসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুর চেয়ে এসব সংগঠনগুলো নিজেদের অন্তর্কলহে জড়িয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দুপক্ষের মারামারির সময় জ্যাকসন হাইটস এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

You Might Also Like