ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দ্রুত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটিগুলো দ্রুত গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (২৩ জুলাই ) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দেন। এসময়, তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কমিটি গঠন কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দেন ।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায়, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় ।

গত ১ জুলাই গুলশানের আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরের মানুষকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ প্রেক্ষিতে সারাদেশের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটি গঠনে যাতে কোনো অবহেলা বা অলসতা না হয় সে জন্য তিনি দলের নেতাদের প্রতি নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ আওয়ামী লীগের একার সমস্যা না। এটা সব মানুষের সমস্যা, দেশের সমস্যা। তাই জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ সব শ্রেণি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ কমিটি যাতে যথাযথভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে করা হয়, সে জন্য তিনি দলের তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন।

ওদিকে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জঙ্গিদের জামিনের পক্ষে ওকালতনামা জমা না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।

রাজধানীতে এ অনুষ্ঠানে আইনজীবী সহকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জঙ্গিদের বেইল পিটিশন মুভ করতে আইনজীবীদের আপনারা বাধা দেন। জঙ্গিদের পক্ষে ওকালতি বন্ধ করে সামাজিক প্রতিরোধ ত্বরান্বিত করতে হবে।

শনিবার সুপ্রিমকোর্টে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ আইনজীবী সহকারী সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তৃতা করছিলেন।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আইএসআইএল নাই। যেটা আছে সেটা হচ্ছে জামায়াতের প্রেতাত্মা। দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য হলি আর্টিজানে হামলা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিছুতেই যেন এটা শেষ না করতে পারি, সেটাই হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য’

আইমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আর্টিজেনের ঘটনা ঘটিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ কিছু করতে পারবে না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে এক-দেড়শ মানুষ কিছু নয়। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা কিছুই করতে পারবে না। আমরা এক থাকলে যারা আমাদের জঙ্গি ছবক দিচ্ছে তারাও বিতাড়িত হবে।

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ঐক্যের একটাই শর্ত-যারা জঙ্গিদের সাথে আছে তাদের সঙ্গে ঐক্য নয়। যারা জঙ্গিদের নির্মূলে আছে তাদের সাথে ঐক্য হতে হবে এবং সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে আজ ধর্মান্ধ ও জঙ্গিদের দ্বারা ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়ার মত ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা উঠেপড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা একত্রিত হয়ে দেশে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপি নেতার বৈঠকের পর থেকে দেশে জঙ্গি হামলা ও জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে জঙ্গিবাদ পরাজিত হতে বাধ্য।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নুর মিয়ার সভাপতিত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, এডভোকেট জেডআই খান পান্না, অল ইন্ডিযা ল’ ক্লার্ক’স ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি অশোক কুমার মন্ডল প্রমূখ।

You Might Also Like