তথ্যপ্রযুক্তি আইন সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণার সুপারিশ

তথ্য প্রযুক্তি আইন সম্পর্কে স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার সকল জায়গায় ব্যাপক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছেন সুধীজনেরা। সেই সঙ্গে তারা ইন্টারনেটের ভালো দিক সম্পর্কে প্রচার চালানো এবং পাঠ্যবইয়ে এ সম্পর্কিত আইন ও নীতিমালা অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করেছেন।

‘মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারে তরুণ প্রজন্ম ও সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের সম্মুখীন, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এই সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ।

আলোচনা সভায় র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম বলেন, ‘আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ ব্যাপারে কেউ কাউকে দোষারোপ না করে এটা রোধে জনমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি ছেলেমেয়েদের হাতে হরহামেশাই অ্যান্ড্রয়েড ফোনসেট না দেওয়ার আহ্বান জানান।

ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- এনডিএফ’র চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে এবং তাদেরকে সামাজিক দায়বদ্ধতার মাঝে আনতে হবে।’

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন ছেলেমেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা, খেলাধুলা ও শরীর চর্চার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন।

আইটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম (ফিরোজ) বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যদি এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক করা যেত তাহলে এই যুব সমাজ যেমন একদিকে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হতো অন্যদিকে রাষ্ট্র আরো উন্নতি সাধন করতো।’

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আজ অবধি যে আইন তৈরি হয়েছে তা যথাপোযুক্ত নয়। কোন সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকার কারণে এর অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।’

সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধে কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে, মুঠোফোন, ইন্টারনেট ব্যবহার বিধি, তথ্য প্রযুক্তি বিধি ও নীতিমালা তৈরি করা। ফেসবুকের সকল ফেক আইডি বন্ধ করা এবং ব্যবহারকারীদেরকে নজরদারিতে রাখা। যে সব প্রতিষ্ঠান এই খাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে তাদেরকে সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় আনা। তথ্য প্রযুক্তি খাতের ভাল-মন্দ দিক প্রচারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গনমাধ্যমের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।

You Might Also Like