মিউনিখে বিপণীকেন্দ্রে গুলি: নিহত ৯, দায়েশ সমর্থকদের উল্লাস

জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম নগরী মিউনিখের একটি বিপণীকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৯ ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মিউনিখ পুলিশের মুখপাত্র থমাস বাওমান জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টায় মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারের একটি ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টে একজন বন্দুকধারী গুলি চালায়। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির লাশ অলিম্পিয়া বিপণিকেন্দ্র থেকে এক কিলোমিটার দূরে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

জার্মান পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, হামলাকারী ইরানি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। পুলিশের কাছে তার বিষয়ে আগের কোনো তথ্য নেই। তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো রেকর্ডও নেই। সে কী উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে তাও স্পষ্ট নয়।
pola
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলের চিফ অব স্টাফ পিটার আলটেইমার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো নিশ্চিত নই, এই হামলাকারী সন্ত্রাসবাদী কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না। আমাদের পক্ষে এখনো সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশের সমর্থকরা এই হামলা নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে। কয়েকদিন আগে জার্মানিরই ভুর্সবুর্গ শহরে এক হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল দায়েশ। ওই হামলাকারী ছিল একজন আফগান তরুণ।

jam
মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই হামলাকারীদের ধরার জন্য পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে পুলিশের অভিযান শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে শহরটির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। এরই মধ্যে মিউনিখের যান চলাচল ব্যবস্থা খুলে দেয়া হয়েছে। ট্রেন, বাস ও ট্রাম চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

এর আগে, গত সোমবার জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুজবুর্গে স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টার দিকে একটি ট্রেনে কুঠার ও ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক কিশোর। এতে চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। পরে হামলাকারী কিশোর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

গত ১৪ জুলাই ফ্রান্সের নিস শহরে একটি উৎসবে এক তিউনিশিয় নাগরিক দ্রুতগতির ট্রাক উঠিয়ে ৮৪ জনকে হত্যার পর জার্মানিতে পরপর দুটি হামলার ঘটনা ঘটল। নিসের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশ।

You Might Also Like