ঈদের আমেজ আর উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা: সর্বস্তরের মানুষের ঢল

ঈদুল ফিতরের আমেজ আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো প্রবাসের অন্যতম সামাজিক ও আঞ্জলিক সংগঠন চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক’র চতুর্থ বৈশাখী পথমেলা। সিটির ব্রুকলীনের বাংলাদেশী ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউর (চার্চ এভিনিউ ও এভিনিউ সি’র মাঝে) বিশাল রাজপথে ১০ জুলাই রোববার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই মেলার আয়োজন করা হয়। আর এই মেলাকে ঘিরে দেশী-বিদেশী সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে। শুধু তাই নয়, এই এভিনিউর আশ-পাশের সড়কগুলোতেও মানুষের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামার ভ্যাকেশনে, চমৎকার আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত মেলায় রং বে রং-এর ছোট, বড়, আবাল, বৃন্ধ-বণিতার পদভারে জমজমাট হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের দাবী এটি প্রবাসের অন্যতম বৃহত্তম মেলা। তাদের মতে ৩০ সহ¯্রাধিক মানুষ মেলাটি উপভোগ করেন। দিনব্যাপী আয়োজিত মেলার কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান, আকর্ষনীয় র‌্যাফল ড্র, দেশী-বিদেশী নানান রকম স্টলের সমাহার, শিশু-কিশোরীদের বিনোদনের জন্য রাইড, স্মরণিকা প্রকাশ প্রভৃতি। এছাড়াও ছিলো সদস্য সংগ্রহ অভিযান। মেলা প্রাঙ্গনে একাধিক স্টল বসিয়ে সদস্য সংগ্রহ করা হয়। খবর ইউএনএ’র।
দুপুরে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় মেলার কর্মকান্ড। মেলার উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন আর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় এসোসিয়েশনের সভাপতি আকবর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের, মেলা কমিটির আহ্বায়ক সুশান্ত দত্ত লোটন ও সদস্য সচিব আশ্রাব আলী খান লিটন, মেলার মিডিয়া পার্টনার টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, মেলার প্রধান গ্র্যান্ড স্পন্সর আব্দুল কাদের মিয়া, এটর্ণী মঈন চৌধুরী, এটর্নী প্যারী ডি সিলভার, সমিতির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ডা. আনোয়ার হোসেন, ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার মামনুনুল হক, ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ, ট্রাষ্টি বোর্ডের কো চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজী সহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং মূলধারার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অফিসিয়্যাল ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা চট্টগ্রাম সমিতির উতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংগঠনেকে আরো শক্তিশালী করার উপর গুরুত্তারোপ করেন। তারা এসোসিয়েশনের সকল সদস্য ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রতি জোরদারের আহ্বান জানান এবং সংগঠনের কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।
বেলা বাড়ার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গনে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। চমৎকার আবহাওয়ায় দেশী-বিদেশীরা মেলা উপভোগ করতে থাকেন। একদিকে বিশাল মঞ্চে গান-বাজনা, অপরদিকে স্টলগুলোতে কেনাকাটা। সেই সাথে পরিচিতজনদের সাথে কুশল আর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, দেশ-বিদেশের খোঁজ-খবর নেয়া আর আড্ডা।
ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ’র দু’পাশে স্থাপিত পিপলস এন্ড টেক, সবুর ওয়াইজুন মেডিক্যাল পিসি, আব্দুল্লাহ সুইট এন্ড রেষ্টুরেন্ট সহ নানান রকম শতাধিক স্টলগুলোতে বেশ ভীড় পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে দেশীয় পোশাকের স্টর আর খাবারের স্টলে ছিলো উপচে পড়া ভীড়। খাবারের স্টলগুলোর মধ্যে বুট-মুড়ি-পিয়াজোঁ আর চটপটি’র চাহিদা ছিলো ব্যাপক।
Ctg_Mella_2016 (170)
মেলামঞ্চে কমিউনিটি ও সমাজ সেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য কাদের ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল কাদের মিয়া ও স্থানীয় পুলিশ প্রিসঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার কেনেথ কুইককে চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া এটর্নী মঈন চৌধুরী ও এটর্নী পেরী ডি সিলভারকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
মেলায় ঘুরে দেখা যায় শুধু ব্রুকলীন বা এর আশপাশ এলাকা নয়, নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, এস্টোরিয়া, ওজনপার্ক প্রভৃতি এলাকার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী সপরিবারে যোগ দেন এবং মেলাটি উপভোগ করেন। মেলা প্রঙ্গনে কথা হলো প্রবীণ প্রবাসী গোলাম রসুলের সাথে নাতি আর পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তার দেশের বাড়ী চাঁদপুর। আলাপকালে জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছি। ব্রুকলীন এলাকাতেই থাকি। মেলায় এসে ভালোই লাগছে। প্রবাসে আনন্দের জন্য পথমেলার বিকল্প নেই।
মেলা শেষে কথা হলো সন্দ্বীপের আরেক প্রবাসী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এমলাক হোসেন ফয়সালের সাথে। তিনি বলেন, মেলাটি জমেছিলো বেশ। বিশেষ করে সবার সাথে র‌্যাফল ড্র’র প্রথম পুরষ্কার গাড়ী বিজয়ীর হাতে তুলে দিয়ে এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা স্বচ্ছতা দেখালেন। এতে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস যোগ্যতাও বাড়লো।
মেলার সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কানিজ সূবর্ণা, ক্লোজআপ ওয়ানের শশী ছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের মধ্যে বকুল, রাজীব চৌধুরী, জলি দাস, খাইরুল ইসলাম সবুজ, মেহেরুন্নেছা কনক, খায়রুল বাসার প্রমুখ সঙ্গীত পরিবেশন করে হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। এছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সুরছন্দের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীদের সাথে যন্ত্রে ছিলেন পার্থ, রাকেশ ব্যানার্জী, বিজন, মাহফুজ ও চৌহান।
সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে শুরু হয় অকর্ষণীয় র‌্যাফল ড্র। এই পর্ব পরিচালনা করেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক সুশান্ত দত্ত লোটন। তাদের সহযোগিতা করেন সংগঠনের সভাপতি আকবর আলী। এসময় মেলার মিডিয়া স্পন্সার টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, মেলার প্রধান গ্র্যান্ড স্পন্সর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন (সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া, অন্যান্য পৃষ্ঠাপোষক এবং এসোসিয়েশনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের শিশুরা র‌্যাফল ড্র’র কুপন তোলে। এতে প্রথম পুরষ্কার ছিলো গাড়ী। দ্বিতীয় পুরষ্কার ছিলো নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক এয়ার টিকেট। এছাড়াও ছিলো আরো আটটি পুরষ্কার। আরো ছিলো পিপল এন্ড টেক-এর একাধিক বিশেষ পুরষ্কার।
র‌্যাফর ড্র শেষে তাৎক্ষনিকভাবে প্রথম পুরষ্কার বিজয়ীর জাকিরের হাতে মাজদা গাড়ীর চাবি তুলে দেন এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সহ মেলার প্রধান গ্র্যান্ড স্পন্সর আব্দুল কাদের মিয়া। সময়ের অভাবে অন্যান্য পুরষ্কার এসোসিয়েশন অফিস থেকে প্রদান করা হয়।
মেলা উপলক্ষ্যে ‘চাটগাঁ’ শীর্ষক আকর্ষণীয় স্মারণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেন মেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং এসোসিয়েশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী খান লিটন। মেলার মূলমঞ্চে ‘চাটগা’র মোড়ক উন্মোচন করেন সংগঠনের ট্রাষ্টি বোর্ডের কো চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজী।
চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের পথমেলায় আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কালাল-রুহুল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুহুল আমীন সিদ্দকীঅ। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুস সবুর। এদিকে মেলাটি সফল করার জন্য সকল দর্শক-শ্রোতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এসোসিয়েশনের সভাপতি আকবর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের, মেলা কমিটির আহ্বায়ক সুশান্ত দত্ত লোটন ও সদস্য সচিব আশ্রাব আলী খান লিটন। সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থপনায় ছিলেন প্রবাসের বিশিষ্ট উপস্থাপন আশরাফুল হাসান বুলবুল।
এসোসিয়েশনের পথমেলা কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন: চেয়ারম্যান- মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, প্রধান সমন্বয়কারী- মোক্তাদির বিল্লাহ, কো-চেয়ারম্যান আলী নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক- আলম বাহার, ফরিদ আহমদ ও সৈয়দ মোহাম্মদ কাউসার, সমন্বয়কারী টি আলম ও সুমন উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব- পরিমল কে নাথ, মহি উদ্দিন লাবু, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ বখতিয়ার। সহযোগিতায় ছিলেন- লোকমান পাশা, জসিম উদ্দিন, রুহুল আমিন, নুরুচ্ছাফা, আনোয়ার, আলম, আলী, আজীম, বখতিয়ার, আব্তার, আতিক, জসিম (ভাগিনা), পেয়ার হোসেন, রাশেদ, ইকবাল, রেদোয়ান, ইদ্রিস (বাবা ১), আক্তার (বাবা ২), এনাম, সান্টু, হাসান, মতিউর, আরিফ চৌধুরী, আলমগীর, এ টি এম রানা, এ টি এম মাসুদ, নজরুল, জাবেদ উল্ল্যাহ, বেলাল আহমেদ, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাচির উদ্দিন, মেজবাউল আলম, আনোয়ার পারভেজ, বিবলী আনোয়ার, এয়াকুব, মামুন, জনি, আরিফ হোসেন, ইব্রাহীম, হাকীম, কাঞ্চন সিকদার, আহমেদ বাবু, সাইফ উদ্দিন, কাজী, বাবু, আরিফুল হাসান, কাজী সাইফুল, মাহাফুজ আলম, সারোয়ার, সাইফুল মিথুন, জহির মেহেদী হাসান, খায়রুল বাশার ও মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন।

You Might Also Like