বন্দুকযুদ্ধে ঝিনাইদহে শিবির নেতা, যশোরে অজ্ঞাত যুবক নিহত

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাইফুল ইসলাম মামুন নামের ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের শৈলকূপার ভাটই এলাকার সেক্রেটারি ছিলেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রশিবিরের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, গত ৩ জুলাই ঝিনাইদহের শিবির নেতা সাইফুল ইসলামকে, ৪ জুলাই আজম হুদাকে, ৫ জুলাই শিবির নেতা মিলন হোসেন ও শাহিনুর রহমানকে এবং ১০ জুলাই সাবেক শিবির নেতা রজব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার চেষ্টা ও অনুরোধ করার পরও এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার বা আদালতে হাজির না করায় আগামীকাল ২০ জুলাই বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টহলদল ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কে আড়ুয়াকান্দি নামক স্থানে পৌঁছালে শিবিরের নেতা-কর্মীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ৪/৫টি হাতবোমা ছুঁড়ে মারে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে কমপক্ষে ২০ মিনিট গুলিবিনিময় হয়। বন্দুকযুদ্ধ শেষে শিবির নেতা-কর্মীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ সাইফুলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের দুই কনস্টেবল ফয়সাল হোসেন ও সুমন হোসেন আহত হন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটারগান, দুটি গুলি, পাঁচটি বোমা ও তিনটি রামদা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত মামুন ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মুচড়াপাড়া-পুটিমারী গ্রামের লুৎফর হোসেনের ছেলে। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

এদিকে, যশোর শহরের বারান্দিপাড়া-ঝুমঝুমপুর সেতুর পশ্চিম পাশে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছেন।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাঁর বয়স ২৭ বছর বলে জানা গেছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, রাতে বারান্দিপাড়া এলাকায় ডাকাতদের সঙ্গে মাদক বিক্রেতাদের গোলাগুলি হচ্ছে বলে জানতে পারে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ ১০টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তদের হটিয়ে দেয়। এর পর ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, তিনটি গুলি ও তিনটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।

You Might Also Like