সেলফোন ও ক্যান্সার!

সেলফোনমাত্রই তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ঘটায়। আর তা থেকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার হতে পারে বলে আশঙ্কা। অনেক চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞই এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছিলেন বেশ কিছুকাল ধরে। অর্থাৎ সেলফোন ব্যবহারে যে তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ নির্গত হয়, তা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পার।

ইঁদুরের ওপর সর্বশেষ গবেষণা
অবশেষে যুক্তরাষ্ট সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের অধীনে সেলফোনের তেজষ্ক্রিয়তার প্রভাব নিয়ে গবেষণাগারে কিছু ইঁদুরের ওপর এক গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এতে আশঙ্কা অনেকটা সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয় টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে।

ইউএস ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম (U.S. National Toxicology Program) -পরিচালিত এই গবেষণায় সেলফোন বা মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ”রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন” (radiofrequency radiation) নামের বিশেষ তেজষ্ক্রিয়তা প্রয়োগ করা হয় এসব ইঁদুরের দেহে। সপ্তাহের সাতদিন। প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা করে। পরে দেখা যায়, সবক’টি ইঁদুরের মস্তিষ্কে জন্ম নিয়েছে ম্যালিগন্যান্ট গ্লিওম্যাস নামের ক্যান্সার উৎপাদক টিউমার। একইসঙ্গে হৃদপিণ্ডেও তা জন্ম নিয়েছে। এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পুরুষ ইঁদুরের বেলায়।

(লিংক: http://time.com/4350398/cell-phones-brain-heart-cancer-rats/)

এই গবেষণার ফলাফলকে আবার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (National Institutes of Health (NIH)) -এর একদল বিশেষজ্ঞ। তারা জানিয়েছেন, ইঁদুরের মতো মানবদেহেও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ বা টিউমার হতে পারে কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ, ইঁদুরের মতো মানবদেহেও যে তেষ্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সার কোষ জন্ম নেবে এখনই তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেননা, ” A study in rats is never directly translational to humans”। তবে আশঙ্কা উড়িয়েও দিচ্ছেন না তারা। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার জন্য আগামী দু’বছরে আরো নিবিড় গবেষণা চালানো হবে।

এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা (WHO) বলছে, মানবদেহেও যে এ থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হবে না এমন কথা এ-মুহূর্তে হলফ করে বলা যাবে না। এজন্য দরকার আরো-আরো গবেষণা।
এর আগে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় সেলফোনের তেষ্ক্রিয়তার সাথে ক্যান্সার সৃষ্টির যোগসূত্র আছে বলে দাবি করেছিলেন গবেষকরা। এমনকি বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থার অধীন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (IARC) ২০১১ সালে পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে বলেছিল, সেলফোন বা অন্যান্য রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক আবেশ থেকে ক্যান্সার (কারসিনোজেন) সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সেলফোন ব্যবহারের কারণে পুরুষের শুক্রাণুর ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে সেটি প্রমাণিত। ২০১৪ সালে এ সংক্রান্ত এক গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, সেলফোনের তেজষ্ক্রিয়তার কারণে পুরুষের দেহের শুক্রাণুর সচলতা শতকরা ৮ ভাগ এবং এর কার্যকারিতা ৯ ভাগ কমে যায়।

চূড়ান্ত গবেষণায় ‘সেলফোন ও ক্যান্সার’ –এ দুটির অনিবার্য সম্পর্ক পাওয়া যাক না যাক, এটা নিশ্চিত যে দীর্ঘমেয়াদে সেলফোন ব্যবহারে রয়েছে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে তা ইঁদুরের মতো মানবদেহেও ক্যান্সারঝুঁকির জন্ম দেয় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত অপেক্ষা।

You Might Also Like