‘বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী যোগসাজস’

ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি সমস্যাকে স্রেফ দেশের ভেতরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফসল মনে করলেও বর্তমানে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যে একটি যোগসাজশ রয়েছে তা মেনে নিতে শুরু করেছে সরকার।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে নিশা দেশাই বিসওয়াল জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও তদন্ত কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটের গুলশানের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আধাঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী মনজুরুল আহসান বুলবুলসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক।

নিশা দেশাইয়ের সাথে আজকের বৈঠকে আংশগ্রহনকারী সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল রেডিও তেহরান’কে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার সাথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জঙ্গি দমনে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়।

এ প্রসঙ্গে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের জঙ্গিদের সাথে যদি আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আই এস আইএলে’র যোগাযোগ থেকে থাকে তবে তা নিশা দেশাই ভালো জানবেন, কারণ আই এসআইএল তাদেরই সৃষ্টি।

সিপিবি’র এ নেতা মনে করেন, জঙ্গি হামলার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে রেখে সোফা চুক্তি আদায় করে নিতে চায় এবং এদেশে তাদের সৈন্যদের স্থায়ী ঘাঁটি গাড়তে চায়।

এ দিকে, গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় দেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি আমেরিকান এফবিআইও মাঠে নেমেছে। ঢাকায় জাপান ও ইতালি দূতাবাসের বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তারাও হামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন।

এছাড়া ভারত সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকায় অবস্থান করে গোপনে তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন বলেও ঢাকার একটি অন-লাইন বার্তা সংস্থা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।

সরকারি সূত্র উল্লেখ করে বার্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, মূলত জাপান নিজেদের মতো করে ঘটনার তদন্ত এবং অনুসন্ধান করছে। তাদের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থার কাজে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তারা রবিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

You Might Also Like