সাতক্ষীরা ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন জন গুলিবিদ্ধ

সাতক্ষীরা ও লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলায় গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে গুলিবিদ্ধ দুই যুবক হলেন সাতক্ষীরা পৌর এলাকার মধুমোল্লারডাঙ্গির বিশ্বজিৎ সরকার (২০) ও দেবহাটার বালিয়াডাঙ্গার মো. নুরুজ্জামান (২৪)।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও মাদক চোরাচালানের পৃথক মামলা হয়েছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন জানান, ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই এমদাদ মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে একদল টহল পুলিশ নিয়ে গতকাল গভীর রাতে সদর উপজেলার ইসলামপুরের বেজেরডাঙ্গায় যান। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা মারে। জবাবে পুলিশ গুলি ছুড়লে এক ব্যক্তি আহত হন। আহত বিশ্বজিৎ সরকার একজন মাদক চোরাকারবারি। তাঁর কাছ থেকে ১০০টি ইয়াবা ও কয়েক বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।

তবে বিশ্বজিতের পরিবারের দাবি, তাকে গত রোববার সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিশ্বজিতের মা সুষমা সরকার জানান, ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য একাধিক সাংবাদিকের শরণাপন্ন হন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলেও পুলিশ তা নেয়নি। দুদিন পর বিশ্বজিৎকে মাদক চোরাকারবারি সাজিয়ে পায়ে গুলি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, একই রাতে দেবহাটায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নুরুজ্জামান নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন।

দেবহাটা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন জানান, এসআই নাজমুল আলম ও এসআই মাসুদুজ্জামান মাদক বেচাকেনার গোপন সংবাদ পেয়ে পুষ্পকাটি গ্রামের ইটভাটার কাছে যান। তাঁদের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর জবাবেও পুলিশ গুলি ছুড়লে নুরুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হন। তিনিও একজন মাদক চোরাকারবারি।

এসআই জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় ফেনসিডিল ও মদ জব্দ করা হয়েছে। নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় দুটি চোরাচালান মামলা রয়েছে।

তবে নুরুজ্জামানের বাবা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে দুদিন আগে এসআই নাজমুল বাড়ি থেকে তুলে আনেন। তাকে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইমাদুল ইসলামের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ইমাদুল পুলিশকে জানান, ইউপি নির্বাচনে নুরুজ্জামান ও তার পরিবার তার (ইমাদুল) পক্ষে কাজ করেনি। সে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুল হকের লোক। আসাদুল তাকে ছাড়ানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

নুরুজ্জামানের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘নতুন চেয়ারম্যান ইমাদুলের উসকানিতে আমার ছেলেকে মাদক চোরাকারবারি সাজিয়ে পায়ে গুলি করেছে পুলিশ।’

এদিকে, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. হারুন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কাশীনগর গ্রামের খোয়াদ মাস্টার সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি এলজি, ছয়টি গুলি, দুটি রামদা ও একটি কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ঊষাতন চাকমা ও নেছার আহমেদ নামের পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাতে রামগঞ্জের কাশীনগর গ্রামে একদল ডাকাত অবস্থান করছিল বলে পুলিশ খবর পায়। পরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যায়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। এতে হারুন নামের এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়।

গুলিবিদ্ধ হারুনের বাড়ি রামগঞ্জের কাশীনগর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম শরবত আলী। তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় চলছে চিকিৎসা। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

You Might Also Like