গুলশানে ২০ পণবন্দী, ৬ জঙ্গি ও ২ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত: আইএসপিআর

ডেস্ক নিউজঃরাজধানী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২০ পণবন্দি, দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এছাড়া এক জাপানি এবং দুই শ্রীলঙ্কার নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

আজ (শনিবার) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সামরিক অপারেশন পরিদফতরের পরিচালক ব্রি. জেনারেল নাইম আশফাক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অভিযানের মাধ্যমে তিনজন বিদেশি—যাদের মধ্যে একজন জাপানি ও দুজন শ্রীলঙ্কানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হই। অভিযানে সাতজন সন্ত্রাসীর মধ্যে ছয়জন নিহত হয় এবং এক সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া অভিযান শেষে তল্লাশিকালে ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। যাদের সবাইকে গতরাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।’ তবে নিহতদের পরিচয় কিংবা তাদের মধ্যে কতজন বিদেশি সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

ব্রিগেডিয়ার. জেনারেল নাইম আশফাক চৌধুরী আরও বলেন, সরকার প্রধানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ পরিচালনা করে। গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থানরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ যৌথভাবে অপারেশন থান্ডার বোল্ট পরিচালনা করা হয়।

নাইম আশফাক চৌধুরী বলেন, সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডোর নেতৃত্বে শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু করে ১২-১৩ মিনিটে ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৪টি পিস্তল, একটি ফোল্ডেডবাট একে-২২, ৪টি অবিস্ফোরিত আইআইডি, একটি ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
new2
শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বরের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ৮ থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় থাকা লোকজনকে পণবন্দি করে। এরপর থেকে পুরো চার কিলোমিটার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখেন।

আর্টিজান বেকারি নামের ওই রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ পর পুলিশের অগ্রগামী দলের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় নিহত হন। আহত হন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন আহমেদ।

You Might Also Like