গুলশানে ভয়াবহ গোলাগুলি: ডিবির এসি ও বনানীর ওসি নিহত

ডেস্ক রিপোর্টঃরাজধানীর গুলশান একটি রেস্টুরেন্টে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দীন আহমেদ নিহত হয়েছেন। এছাড়া, অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসান জানান, সালাউদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রাত সোয়া একটায় ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এসি রবিউল।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবদুল আহাদের দেহরক্ষী মফিজুল ইসলাম বলেন, এডিসি আহাদ, গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক ও এসআই জিয়া, ভাটারা থানার পরিদর্শক ইয়াছিনসহ অন্তত ৫০ জন পুলিশকে আহত অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ৮টায় গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডে ‘হলি আর্টিসান বেকারি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে গুলি বিনিময়ের ঘটনা শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে। রেস্টুরেন্টটির ভেতরে বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজনকে সন্ত্রাসীরা পণবন্দি করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে গোলাগুলির পর এক পর্যায়ে পুলিশের গুলি শেষ হয়ে যায়। পরে পুলিশের সঙ্গে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব যোগ দেয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।, র‍্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন। তারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
ploice2
গুলশানের ঘটনাস্থলে একটি সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করতে বলেছেন। তিনি জানান, ভেতরে যারা আটকা পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক। তাদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো প্রয়োজন যা সরাসরি দেখানো সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে যান চলাচল। ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষায়িত টিম ‘সোয়াত’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। এছাড়া বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, পুলিশের ৪টি এপিসি কারও ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে।
police3
বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজা সাংবাদিকদের বলেছেন, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন অস্ত্রধারী সেখানে হামলা চালায়। আল্লাহু আকবার বলে তারা ঢুকে পড়ে। এরপর একের পর এক বোমা ফাটাতে শুরু করে।”

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রেস্টুরেন্টটিতে প্রবেশ করতে চাইলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষায় পুলিশ গুলি চালায়। এতে রাত ৮টা থেকে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে গোলাগুলি বন্ধ রয়েছে।

You Might Also Like