দুর্নীতির দায়ে বেড়া পৌরসভার মেয়র বরখাস্ত

সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ছোট ভাই পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. আবদুল বাতেনকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে নাম থাকায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।

গত রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এদিনে নির্বাচন কমিশন বেড়া পৌরসভার নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফশিল অনুয়ায়ী ১২ জুলাই মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৪ জুলাই মনোনয়নপত্র বাছাই, ২২ জুলাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ৭ আগষ্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে পাবন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সীমানা নির্ধান সংক্রান্ত্র জটিলতায় এই পৌরসভার নির্বাচন বন্ধ ছিলো।

অপরদিকে পৌর-আইনের ৩১ এর ১ ধারা অনুযায়ী পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে নাম থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। বেড়া পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে এই ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপির ছোট ভাই পাবনার বেড়া পৌরসভার মেয়র ও বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ আব্দুল বাতেনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ২৩ মার্চ পৃথক চারটি মামলায় চার্জশীট দেয় দুদক। পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: রেজাউল করিম চার্জশীট গ্রহণ করে পরবর্তি কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন। গত বছরের ২৭ আগষ্ট এবং ৩১ আগষ্ট দুদক, পাবনা অফিসের উপ সহকারি পরিচালক জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেন। বিষয়টি জেলার সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন, বেড়া পৌরসভার প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজুল আলম, সাবেক সচিব বর্তমান পঞ্চগড় পৌরসভার সচিব মো: রাশিদুর রহমান, কাউন্সিলর যথাক্রমে হাবিবুর রহমান হবি, আবু দাউদ শেখ, জয়নাল আবেদিন, শামসুল হক খান, এনামুল হক শামিম, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুস সামাদ মহলদার, শহিদ আলী, নার্গিস আক্তার, মোছা: জাকিয়া খাতুন এবং হাটের ইজারাদার মাহবুব হোসেন বাবলু, চাটমোহরের উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সরওয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শহিদুল ইসলাম, পাবনার সাবেক জিপি অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন সবুজ, বেড়া পাউবোর তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী আ: আজিজ খান ও সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: রাজু আহমেদ।

উল্লেখ্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এবং তার ভাই বাতেনের দাপটে পাবনা ও বেড়ার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছিলো। সরকারী কর্মকর্তাসহ বহু মানুষ নানা ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

You Might Also Like