মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া (৬৫)সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ২ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ারদী।

আবদুল আজিজ ছাড়া এ মামলার অন্য পাঁচ আসামি হলেন—মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আবদুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আবদুর রহিম মিঞা (৬২)। ছয়জনই পলাতক।

এর আগে গত ১৬ জুন এ ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজ দিন নির্ধারণ করা হয়।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গত ২৭ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর তদন্ত শুরু করে ২৭ ডিসেম্বর শেষ করা হয়।

ছয়জনের বিরুদ্ধে মোট ছয় খণ্ডে ৮৭৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। মামলায় ২৫ জন এবং জব্দ তালিকায় তিনজন মিলিয়ে মোট ২৮ সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন।

ছয় আসামির বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ

আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ৯ অক্টোবর সকাল ৮টা বা সাড়ে ৮টার সময় আসামিরা পাকিস্তানের দখলদার সেনা বাহিনীর ২৫/৩০ জনকে সঙ্গে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন মৌজামালি বাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়ে চার জন নিরীহ, নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে আটক, নির্যাতন ও অপহরণ করে। পরে তাদের দাড়িয়াপুর ব্রীজে নিয়ে গিয়ে গনেশ চন্দ্র বর্মণের মাথার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে এবং বাকিদের ছেড়ে দেয়। আসামিরা আটককৃতদের বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করে।

দ্বিতীয় অভিযোগ অনুসারে, ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে আসামিরা সুন্দরগঞ্জ থানার মাঠেরহাট ব্রীজ পাহারারত ছাত্রলীগের নেতা মো. বয়েজ উদ্দিনকে আটক করে মাঠেরহাটের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করতে থাকে। পরদিন সকালে আসামিরা বয়েজকে থানা সদরের স্থাপিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তিন দিন আটক রেখে নির্যাতনের পর ১৩ অক্টোবর বিকালে তাকে গুলি করে হত্যা করে লাশ মাটির নিচে চাপা দেয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১০ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আসামিরা পাকিস্তান দখলদার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সুন্দরগঞ্জ থানার পাঁচটি ইউনিয়নের নিরীহ-নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের ১৩ জন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবৈধভাবে আটক করে। তাদের তিন দিন ধরে নির্যাতন করার পর পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পের কাছে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে এবং তাদের লাশ মাটি চাপা দেয়। সেখানে ওই শহীদদের স্মৃরণে একটি বধ্যভূমি নির্মিত হয়েছে। -পার্সটুডে

You Might Also Like