উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুন জ্বালানোর চক্রান্ত: তদন্ত রিপোর্ট

এখন সময় ডেস্কঃ ভারতের উত্তর প্রদেশে কাইরানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আগুন জ্বালানোর চক্রান্ত হয়েছে বলে সাধু-সন্তদের এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে।

সম্প্রতি বিজেপি সংসদ সদস্য হুকুম সিং অভিযোগ করেন, কাইরানা শহরে ৩৪৬ টি হিন্দু পরিবারকে স্থানীয় মুসলিমরা ঘরছাড়া করেছে। কাইরানাকে কাশ্মিরে পরিণত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। হুকুম সিংয়ের এ ধরণের দাবিতে উত্তর প্রদেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক তদন্তে এবং আলাদাভাবে বিভিন্ন মিডিয়ার তদন্তেও বিজেপি’র ওই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, কাইরানা ইস্যুতে উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের সাধু-সন্তদের তদন্ত দল গঠন করা হয়। তারা এ নিয়ে গত ১৯ জুন থেকে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে কমিটির পক্ষ ২০ পাতার প্রতিবেদনে দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ১০ দফা পরামর্শও দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি এসব পরামর্শের ভিত্তিতে পদক্ষেপ না করা হয় তাহলে গোটা উত্তর প্রদেশ দাঙ্গার আগুনে জ্বলতে পারে।

সাধুদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, (বিজেপি সংসদ সদস্য) হুকুম সিং যখন মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন, সেই সময় ১২১ টি পরিবার কাইরানা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া মোট ১৫০ টি পরিবার সাবেক ডিজিপি এবং কাইরানা ইস্যুতে বিজেপি’র তদন্ত কমিটির সদস্য ব্রিজলালের কার্যকালের সময়ে পলায়ন করেছিল।

সাধুদের তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে গুলি চালানোর ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা শামিল ছিল তারা সকলেই হিন্দু। এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকরাও হিন্দু সম্প্রদায়ের। এরমধ্যে বিজেপি এবং সপা’র কিছু নেতাও রয়েছে।

সাধুদের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো হিন্দুই মুসলিমদের জুলুমের কথা বলেনি।

তাদের পরামর্শে বলা হয়েছে এমন মন্ত্রণালয়/বিভাগ তৈরি করা হোক যারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে নজরদারি চালাবে এবং সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনে চাঁদাবাজি এবং অপরাধের কথা তুলে ধরে এজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করা হয়েছে।

রাজ্য সরকার গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত দলে ছিলেন, আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণন, স্বামী কল্যাণদেব, স্বামী চিন্ময়ানন্দ, স্বামী চক্রপাণি এবং স্বামী দেবেন্দ্রানন্দ। তারা গত ১৯ জুন থেকে কাইরানা সফর করেন এবং পরে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন রাজ্য সরকারের কাছে পেশ করেন।

You Might Also Like