তালাকে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা

তানোর উপজেলায় তালাকে রাজি না হওয়ায় গলায় রশি বেঁধে স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গৃহবধূ শারমিনকে (১৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে তানোর পৌর এলাকার রায়তান বড়শো গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত গৃহবধূ শারমিন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। ফলে বিচার পাওয়ার আশায় ওই গৃহবধূর পিতা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তানোর পৌর এলাকার রায়তান বড়শো গ্রামের আব্দুল্লাহ গত ৮ মাস আগে একই গ্রামের দশম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া শারমিনকে প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শারমিনের জীবনে নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এরই মধ্যে একবার বিষ খাইয়ে শারমিনকে হত্যার চেষ্টা করেন তার স্বামী আব্দুল্লাহ। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে বেশ কয়েক দফা ঘরে বন্দি করে নির্যাতন চালানো হয়। গত সোমবার দুপুরে স্ত্রী শারমিনকে তালাক নিতে বলেন স্বামী আব্দুল্লাহ। এতে রাজি না হলে শারমিনের গলায় রশি বেঁধে ঘরের ভেতরে বন্দি করা হয়। পরে শারমিন আতত্মহত্যা করেছে বলে গ্রামবাসীর কাছে খবর দেয় আব্দুল্লাহ। পরে গ্রামের লোকজন শারমিনকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শারমিন বেঁচে আছে। এরপর চিকিৎসা শেষে ৮ ঘন্টা পর জ্ঞান ফেরে শারমিনের।

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীই তাকে নির্যাতনের পর জোর করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাটি শুনে ওইদিন রাতেই তানোর থানায় অভিযোগ করেন তার বাবা মুনসুর রহমান। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো রহস্যজনক কারণে পুলিশ কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি।

আব্দুল্লাহ জানান, শারমিনকে বিয়ে করার পর তার জীবনে অশান্তি নেমে আসে। একারণে তার স্ত্রী শারমিনকে তিনি তালাক নিতে বলেন। তালাকের কথা শুনে শারমিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত নন।

You Might Also Like