ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শতভাগ ঈদ বোনাসের দাবিতে গাজীপুরে কোজিমা লিরিক গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিন শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন নলজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৭০ ভাগের স্থলে শতভাগ ঈদ বোনাস এবং ৩০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবিতে দুপুর সোয়া ১টার দিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-জয়দেবপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এতে ওই সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

এ ঘটনায় কারখানার আয়রনম্যান রাশিদা (২৫), শ্রমিক সাবিনা (২৪) ও নাজমা (২৫) গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠায়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এনামুল কবির জানান, ওই কারখানার সাতজন শ্রমিককে এ হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনজনসহ চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, তারা এক মাস আগে থেকে কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে শতভাগ ঈদ বোনাস এবং ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদেক্ষেপ নেয়নি। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে শ্রমিকরা দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আসে।

কারখানার ম্যানেজার অপূর্ব লাল হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, ইতিপূর্বে রমজানের ঈদে শ্রমিকদের ৭০ ভাগ ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হলেও এবার শ্রমিকরা তা মেনে নেয়নি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আরো দশ ভাগ বাড়িয়ে এবার ঈদ বোনাস ৮০ ভাগ করার ঘোষণা দেওয়ার পরও মঙ্গলবার শ্রমিকরা অযৌক্তিভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি।

জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে লাঠিচার্জ, কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

You Might Also Like