নারীদের জাপটে ধরছে ‘পিছলা ভূত’

Desk News সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই ‘ভূত’ আতঙ্কে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে গ্রামের প্রতিটি মানুষ। শিশু, নারী, বৃদ্ধ, কিশোর, কিশোরীরা সিঁটিয়ে ঘরে বসে থাকছে। পুরুষরা লাঠি, বল্লম, দা, কুড়োল হাতে গ্রামজুড়ে পাহারা দিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের আলীপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানার ডাঙ্গি, কোহিনূর, উত্তর মহাকালগুড়ি, শালধূরা ও ইন্দিরা কলোনিসহ প্রতিটি গ্রামের রাতের ছবি এখন এমন।

আতঙ্ক ছড়ানো এই ‘ভূতের’ নামও দেওয়া হয়েছে। পিছলা ভূত। এই ‘পিছলা ভূত’ বিশেষত টার্গেট করছে নারীদের। রাতের অন্ধকারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। নারীরা ঘর থেকে বেরোলেই তাদের জাপটে ধরছে ‘ভূত’। চিৎকার-চেচামেচিতে বাড়ির লোক-প্রতিবেশীরা ছুটে এসে সেই ‘ভূত’ ধরার চেষ্টা করলেও পারছেন না।

তাকে ধরতে গেলেই পিছলে যাচ্ছে সে। ভূত তাড়াতে তান্ত্রিক-ওঝাকে খবর দিয়েও কুলোচ্ছে না। কুলোচ্ছে না বিশেষ পূজা-অর্চনা-প্রার্থনা করেও।

‘পিছলা ভূত’ আতঙ্ক প্রথম ছড়ায় গত ১১ জুন কোহিনূর গ্রামের চা বাগান লাগোয়া ডাঙ্গি নতুন কলোনিতে। সেখানে নিমাই বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী অনিমাদেবীকে জাপটে ধরে ‘পিছলা ভূত’।

দুই সন্তানের মা অনিমাদেবীর ভাষ্যে, ‘রাত ৯টার মধ্যে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ি। ১১টার সময় বাইরে বের হই। অন্ধকারে যেতেই কালো কুচকুচে একটি ছায়া আমাকে জাপটে ধরে। ঝটকা দিয়ে ছাড়িয়ে আমি চিৎকার করে সেটিকে ধরে ফেলি। কিন্তু ভূতের শরীর এতটাই পিচ্ছিল যে, কোনোভাবে ধরে রাখতে পারিনি। প্রতিবেশরা ছুটে আসার আগেই পালিয়ে যায় সেটি। ওই মুহূর্তের কথা ভাবলে এখনও গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়।’

পরের দিন ১২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। ওই গ্রামের ১৭ বছরের এক কিশোরী পাশের বাড়িতে টিভি দেখে ঘরে ফিরছিলেন। অন্ধকারে হঠাৎ একটি ‘ভূত’ তাকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। চিৎকার শুনে প্রতিবেশি এক যুবক সেটিকে ধরেও ফেলে। কিন্তু একইভাবে পিছলে পালিয়ে যায় সে ‘ভূত’।

এক গৃহবধূ রাতে কলের পাড়ে বসে বাসন মাজছিলেন। এসময় তার মুখ চাপা দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ‘ভূত’। ওই বধূর কথায়, ‘বিশাল দেহটি আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ায় প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পর মুহূর্তে গায়ের জোরে নিজেকে ছাড়িয়ে ওই বিশাল দেহটি জাপটে ধরি। কিন্তু ভূতের শরীর এতোটাই পিচ্ছিল ছিল যে হাত পিছলে নিমিষে অন্ধকারে মিশে গেল সেটি।

পশ্চিমবঙ্গের একটি সংবাদমাধ্যমের খবর মতে, এমন আরও পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে আলীপুরদুয়ারের গ্রামগুলোতে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে সেসব কথা প্রকাশ্যে আনছেন না।

গ্রামের সচেতন লোকজন বুঝতে পারছেন, এটা কোনো দুষ্টু লোকের কাজ। এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যে আদতে কোনো ভূত-প্রেতের ব্যাপার নেই তাও তারা নিশ্চিত।

সেজন্য তারা খবর দিয়েছেন পুলিশে। আর পুলিশ এ ব্যাপারে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে প্রচারণায় নেমেছে। একইসঙ্গে নেমেছে টহলেও। এ নিয়ে গ্রামের পঞ্চায়েত ও কিছু সংস্থাও কাজ শুরু করেছে।

কোহিনূর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেশমা দাস বলেন, মানুষের মধ্যে যেভাবে ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা হয়তো কোনো দুষ্টু চক্র বা লোকের কাজ। তারা গায়ে তেল মেখে অপকর্ম করতে আসছে, যেন কেউ ধরে ফেলতে না পারে।

শামুকতলা থানার ওসি এলপি ভুটিয়া বলেন, আমরা কয়েকটি গ্রাম থেকে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিত আকারে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রাত টহল বাড়ানো হয়েছে।

You Might Also Like