সরকার নিজেই রাষ্ট্রদ্রোহী-খালেদা: দু’জন মন্ত্রী সত্য বলেছেন- অলি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারকে ব্যর্থ, অযোগ্য, অথর্ব, দুর্নীতিবাজ, গুম-হত্যাকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লেডিস ক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “কখনো দেখিনি ব্যাংক এভাবে লুট হয়। প্রত্যেকটি ব্যাংক, সেটি সরকারি অথবা বেসরকারি সব লুট হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক কখনো ডাকাতি হয়নি যেটা এই সরকারের আমলে হয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে এই সরকার খুনি, ব্যর্থ, অযোগ্য, অথর্ব দুর্নীতিবাজ, গুম ও অত্যাচারী।”

সরকার নিজেই রাষ্ট্রদ্রোহী মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, “তারা অন্যের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার দিয়ে বেড়ায় কিন্তু এই সরকারই হলো রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওরা গোপনে অনেক কিছু করছে, যেটা জনগণ জানে না এবং যেটা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। কাজেই আজকে তাই উচিত দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমাদের বড় কথা হলো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, দেশটাকে পারলে রক্ষা করা, মানুষের কল্যাণ করা।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই সরকার দেশকে পুরোপুরি কারাগার বানিয়েছে। এ পর্যান্ত ১২ হাজারের অধিক গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০০-এর অধিক বিএনপির নেতাকর্মী। এতে সহজেই বুঝা যায়, তাদের লক্ষ্য সন্ত্রাসী ধরা নয়। সন্ত্রাসীকে পার করে দিয়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের ধরা এবং নিরীহ মানুষকে জেলে ঢোকানো।”

বেগম জিয়া বলেন, “ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কেউ অবাধে অস্ত্র নিয়ে ঘুরলেও তাদের ধরা হয় না। ধরলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের একনেতা অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়লেও তাকে জামিন দিয়ে দেয়া হয়।”

বিএনপিসহ জোট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। কে কী পদ পাবে, সেটা না ভেবে সকল রাজনীতিবিদদের উচিত যার যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। চাওয়া পাওয়া বড় নয়, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা এবং দেশকে রক্ষা করা ও জনগনের কল্যাণ করাই বড় কথা।”

অনুষ্ঠান সভাপতির বক্তব্য রাখেন এলডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জামায়াতের যেমন বিচার করছেন, তেমনি জাসদেরও বিচার করেন। তাহলে দেশের মানুষ আপনাকে বাহবা দেবে।

অলি আহমেদ বলেন, এ রমজানে সরকারের দু’জন মন্ত্রী দু’টি সত্য কথা বলে ফেলেছেন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকে পুকুর চুরি হয়েছে। এই অর্থমন্ত্রীর এখন বিচার হওয়া উচিৎ। কারণ উনি হলেন ব্যাংক-বিমার অভিভাবক। আরেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সাহেব বলেছেন, জাসদ নেতারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আমি সাক্ষী, এই ইনুরা কেবল বঙ্গবন্ধুকে নয়, এরা অনেক সেনা অফিসার ও রাজনীতিবিদদের হত্যা করেছে। সেনাবাহিনীতে ১৯টি ক্যু হয়েছে, এদের গণবাহিনীর নেতৃত্বে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি যেমন জামায়াতের বিচার করছেন, তেমনি জাসদেরও বিচার করেন জনগণ আপনাকে বাহবা দেবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এছাড়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এ টি এম আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা, পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাহবুব, মুসলিম লীগের সভাপতি এইচএম কামরুজ্জামান খান, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, সাম্যবাদী দলের মহাসচিব সাঈদ আহমেদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন ইফতার করেন।

(সংগৃহীত খবর)

You Might Also Like