খারাপ উদ্দেশ্যে কাউকে ধরিনি : আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

দেশব্যাপী চলমান সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আমরা কোনো ইল মোটিভ (খারাপ উদ্দেশ্য) ও পলিটিক্যাল নিপীড়নের উদ্দেশ্য নিয়ে কাউকে ধরিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ৬৩০টি থানা রয়েছে। প্রতিটি থানায় প্রতিদিন ২০ জন করে গ্রেপ্তার করা হলেও ১২,৬০০ হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগে প্রতিদিন কমবেশি ২ হাজারের মতো আটক করা হতো। কাজেই এই ফিগার মেলালে খুব বেশি হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিল, তাই তাদের ধরা হয়েছে। জঙ্গিদেরও ধরা হয়েছে।’

গ্রেপ্তারের বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিশেষ কিছু নয়, কোনো রাজনৈতিক নেতাকে আটক করিনি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের জন্য এটা করিনি। আমরা সন্দেহভাজক টেরোরিস্ট ও আদালত কর্তৃক নির্দেশিত (ওয়ারেন্টভুক্ত) ক্রিমিনালদের ধরার জন্যই এটা (সাঁড়শি অভিযান) করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সন্ত্রাস একটি গ্লোবাল থ্রেট (বিশ্বব্যাপী হুমকি)। এটা একসাথে মোকাবিবেলা করার ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি একমত হয়েছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্সিয়া বার্নিকাট।’

বিএনপি দাবি করেছে গ্রেপ্তার করা অর্ধেকই বিএনপির নেতাকর্মী- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি দাবি করছে কেন আমার জানা নেই। আমার মনে হয় যারা ক্রিমিনাল সবাই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। কোর্ট থেকে যেগুলো আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি, হয়তো সে ধরনের যারা ক্রিমিনাল তারা বিএনপির সদস্য হতে পারে, সেটা আমাদের জানা নেই।’

নিরপরাধ লোকজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বিভিন্ন মহলের এ অভিযোগের কথা জানালে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো নিরপরাধ ধরা হয়নি। নির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতে ধরা হয়েছে। যদি কেউ নিরপরাধ হন তাহলে সেটা আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন নিরপরাধ কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।’

You Might Also Like