প্লট বরাদ্দে অনিয়ম : যুগ্ম সচিবসহ ৩ জনকে দুদক-এর জিজ্ঞাসাবাদ

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অপর ২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সচিব শওকতের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের স্বার্থে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায়। জিজ্ঞাসাবাদ বিকাল ৪টা পর্যন্তু চলবে বলে দুদক সূত্রে জানা যায়।

সূত্রটি জানায়, যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খিজির আহমেদ, রাজউকের যুগ্ম সচিব নাজমুল হাই এবং রাজউকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান। এ মামলার একমাত্র আসামি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল স্ত্রী, মা ও নিজের নামে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় পৃথক ৩টি মামলা (মামলা নং- ৮, ৯, ১০) করা হয়। উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় বাদী হয়ে এ মামলাগুলো দায়ের করেন। মামলা তদন্তের স্বার্থে গত ১২ মে সচিব শওকতসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারই প্রেক্ষিতে আজ এই কর্মকর্তাদের আজ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

তিনটি মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে শওকত হোসেন তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে ৩ কাঠার প্লট নেন। পরবর্তীতে অন্যত্র ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দ দিতে রাজউকে আবেদন করেন। রাজউক সেই আবেদন গ্রহণ করে ৩ কাঠার প্লটকে ৫ কাঠা করে দেয়। যা রাজউক নীতিমালার পরিপন্থী।

একইভাবে নিজের নামে বরাদ্দকৃত ৩ কাঠার প্লটকে অনিয়মের মাধ্যমে ৫ কাঠায় রূপান্তর করেন তিনি। একইসঙ্গে পূর্বাচল প্রকল্পে স্ত্রী অধ্যক্ষ আয়েশা খানমের নামে সাড়ে সাত কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে তা সাড়ে ১২ কাঠা ৮ ছটাকে উন্নীত করেন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালীন এসব অনিয়ম করেন।

প্রসঙ্গত, এসব অনিয়ম রাজউকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদার আমলে ঘটেছিল বিধায় তাকেসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

You Might Also Like