বাংলাদেশ ও ভারতে বাম রাজনীতির ভবিষ্যৎ

পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছয়টি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের মোর্চা বামফ্রন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে এবার রাজ্য নির্বাচনে লড়েছে। তার পরও তাদের হার হয়েছে। তৃণমূল একাই নির্বাচনে লড়ে জিতেছে। নির্বাচনের আগে এত প্রচার-প্রচারণা করেও সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লকের মতো দল বিধানসভায় তাদের আসনসংখ্যাও বাড়াতে পারেনি। বরং কমেছে। আগের নির্বাচনে কংগ্রেস মমতার তৃণমূলের কাঁধে চেপে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ফিরতে চেয়েছিল। তৃণমূল তাদের ক্ষমতার ভাগ দিয়েছিল। বেশি দিন দেয়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল এক্কাদোক্কা খেলেছে।

এবার পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। লাভ হয়নি। সার্বিকভাবেই জোটের পরাজয় ঘটেছে। আর পরাজয়ের পর যা হয়। কংগ্রেস দুষছে বামফ্রন্টকে, আর বামফ্রন্ট দুষছে কংগ্রেসকে। তাতে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর মধ্যে যে শক্তিশালী মোর্চা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল, তা আপাতত মিলিয়ে গেল। এর লাভের ফসল ঘরে তুলবে মোদি সরকার।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার, যে সিপিআই নেহরু আমল থেকে ইন্দিরা আমল পর্যন্ত কংগ্রেসের বি টিম হিসেবে পরিচিত ছিল, তারা এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার জন্য সিপিএমের ওপর দোষারোপ করছে। সম্প্রতি কলকাতায় ভূপেশ ভবনে সিপিআইয়ের রাজ্য কমিটির বৈঠকে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হয়। তাতে পার্টি নেতারা বলেন, ‘আমরা জানতাম, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলে মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা জন্মাবে। প্রলেতারিয়েত দলের সঙ্গে পুঁজিবাদী রাজনৈতিক দলের জোট হওয়াটা ভুল ছিল। সে কারণে সিপিআই প্রথম থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার ব্যাপারে রাজি ছিল না। কিন্তু সিপিএম একপ্রকার জোর করে এই জোট আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে।’
ফরোয়ার্ড ব্লকও একই অভিযোগ তুলেছে সিপিএমের বিরুদ্ধে। তাতে কলকাতার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের রসিক অংশ নানা টীকা-টিপ্পনী কাটছে। এই টীকা-টিপ্পনীর সারকথা হচ্ছে, সিপিআই নামে কমিউনিস্ট দল বটে, কিন্তু প্রলেতারিয়েত দল হলো কবে? সিপিএম, ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি সম্পর্কেও একই প্রশ্ন। সাম্যবাদে বিশ্বাসী ভারতের একদল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নেতৃত্বে ও সমন্বয়ে এই দলগুলোর জন্ম। তারা মেহনতি মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য প্রথম দিকে অনেক সংগ্রাম করেছে, কিন্তু সঠিকভাবে প্রলেতারিয়েত বা সর্বহারাদের দল হয়ে উঠতে পারেনি। মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রগতিশীল অংশের দল হয়ে রয়েছে।
এটা যে কত সত্য, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ত্রিশ বছরের বেশি শাসনক্ষমতায় থাকার সময়ে। প্রথম দিকে তারা গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পঞ্চায়েতপ্রথা পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করেছে। তারপর পুঁজিপতিদের দল বলে কথিত কংগ্রেসের শাসকদের মতোই দলতন্ত্র ও দুর্নীতির পোষকতা, মাস্তানতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি কাজে হাত পাকিয়েছে। মুসলিম ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য তাদের মৌলবাদী অংশকে তোল্লা দিয়েছে। গরিব মুসলমানরা গরিবই থেকে গেছে। কংগ্রেসের কায়দায়ই শিল্প প্রতিষ্ঠার নামে টাটা বিড়লাদের রাজ্যে ডেকে এনে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে কৃষক দলনের নীতি গ্রহণ করেছিল বামফ্রন্ট সরকার।
জীবনযাপন ও ক্ষমতা প্রয়োগের বেলায় তারা পুঁজিবাদী শাসকদেরই চেহারা ও চরিত্র ধারণ করেছিল। প্রলেতারিয়েতদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক, সংস্রব তাদের ছিল না। বামফ্রন্টের নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু দম্ভ করেই বলতেন, “ও চৎবধপয ষরশব ধ ঢ়ৎরবংঃ, নঁঃ ষরাব ষরশব ধ ঢ়ৎরহপব”। অর্থাৎ আমি একজন ধর্মযাজকের মতো কথাবার্তা বলি, কিন্তু একজন রাজপুত্রের মতো জীবনযাপন করি।’ কথাটা অনেক বড় বড় কমিউনিস্ট নেতার জন্যই সত্য। উপমহাদেশে মার্ক্সবাদ বা সাম্যবাদে দীক্ষা নিয়ে কমিউনিস্ট, সোশ্যালিস্ট অনেক দলের জন্ম হয়েছে। কিছুকাল তারা মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধও করেছে। তারপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যবিত্ত নেতৃত্ব পুঁজিবাদী দলের নেতাদের মতো সুবিধাবাদী চরিত্রে ফিরে গেছে। এখানেই নিহিত রয়েছে উপমাদেশে বামপন্থী রাজনীতির ব্যর্থতার বড় কারণ।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বামফ্রন্টের পরাজয়ের বড় কারণ কংগ্রেস বা বামফ্রন্ট কোনো দলই তাদের অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেয়নি। তা সংশোধন করে জনসাধারণের কাছে উন্নত কর্মসূচি নিয়ে উপস্থিত হতে পারেনি। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে কেবল দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চিৎকার করেছে। তৃণমূল তার পাল্টা উন্নয়নের ফিরিস্তি ভোটদাতাদের সামনে তুলে ধরে কংগ্রেস ও ফ্রন্ট জোটের দুর্নীতির প্রচারণা ব্যর্থ করে দিয়েছে। সব দেশের ভোটাররাই এখন ঠেকে শিখেছে, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেবেই। এ ক্ষেত্রে ভোটদাতাদের দেখার বিষয় কোন সরকার তাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশি কাজ করেছে। তৃণমূল জনগণের কাছে এই পরীক্ষায় পাস করে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের এই বড় ধরনের নির্বাচনী পরাজয়ে অনেকের আশঙ্কা, এর ফলে সিপিএম সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের স্টেটাস হারাতে পারে। তা যদি হয়, ভারতে বাম গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যে প্রায় শূন্যাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার সুযোগ নেবে বিজেপি। বাম রাজনীতির সহায়তা ছাড়া রাহুল গান্ধীর অপরিপক্ব নেতৃত্বে কংগ্রেস সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এক নম্বর সেরা দল হিসেবে আগের স্থান দখল করবে তার আশু সম্ভাবনা কম, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা। সে ক্ষেত্রে বিজেপিই হয়ে দাঁড়াতে পারে সর্বভারতীয় এক নম্বর দল। বিজেপির ওপর শিবসেনা, আরএসএসের মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলোর প্রভাব থাকায় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অতীতের কংগ্রেসের স্থান গ্রহণ করার সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিতীয় দফায় রাজ্য নির্বাচনে বিপুল জয়ের অধিকারী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি এখন দিল্লির দিকে। কিন্তু তৃণমূলের জন্য এখনো দিল্লি দূরস্থ। কারণ, দলটির নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেই। সুযোগ বুঝে মমতা বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েন, আবার দরকার পড়লে কংগ্রেসের সঙ্গেও হাত মেলাতে দ্বিধা করেন না। প্রথমবার কংগ্রেসের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এবার বিজেপি তাঁকে তাদের জোটে চাইছে। মোদি সরকার তাঁর রাজ্য সরকারের আর্থিক দাবিদাওয়া মেনে নিলে তিনি কী করবেন বলা মুশকিল!
স্বাধীনতা লাভের পর ভারতে অনেকেই আশা করেছিলেন, গণতান্ত্রিক ভারতের সুরক্ষার জন্যই সে দেশে দ্বিদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র গড়ে উঠবে। কংগ্রেসের বিকল্প দল হয়ে উঠবে সর্ববৃহৎ বামপন্থী দল কমিউনিস্ট পার্টি অথবা প্রজা সোশ্যালিস্ট দল। সোভিয়েত-চীন তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে এবং কখনো বামপন্থীবিচ্যুতি এবং কখনো ডানপন্থীবিচ্যুতিতে ভুগে কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়।
তাদের এক অংশ কংগ্রেসের বি টিমে পরিণত হয়। অন্য অংশ কিছুদিন চীনপন্থী সেজে বিপ্লবের নামে অ্যাডভেঞ্চারিজমে ভুগে সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেয় এবং তাদের নেতৃত্ব ক্ষমতায় বসার পর ধীরে ধীরে সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত চরিত্রে ফিরে যায়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাম রাজনীতির বিপর্যয়ে ধীরে ধীরে সেই শূন্যাবস্থা পূরণ করার সুযোগ পায় বিজেপির মতো হিন্দুত্ববাদী দল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে উদারনৈতিক হলেও তাঁর দল ও সরকারের ওপর হিন্দুত্ববাদী আরএসএস ও শিবসেনার দাপট রুখতে পারছেন না।
গান্ধী-নেহরুর গণতান্ত্রিক ভারতের চরিত্র রক্ষা এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদের অভ্যুত্থান ঠেকানোর জন্য সর্বভারতীয় একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দলের আবির্ভাব যে প্রয়োজন, এই সত্যটা এখন অনেকেই অনুভব করছেন। একসময় কংগ্রেস এ অভাবটা পূরণ করে এসেছে। এখন পারছে না। বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক দল কোনো কোনো রাজ্যে ক্ষমতায় থাকতে পারলেও কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারছে না। এই শূন্যস্থান কি তাহলে পূর্ণ করবে বিজেপি? এই আশঙ্কা ভারতের সচেতন গণতান্ত্রিক মহলের সর্বস্তরে। কেউ কেউ ভাবছেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলো যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং কেন্দ্রের রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে, তাতে ভবিষ্যতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে শাসন ক্ষমতায় বসতে পারে।
এই সম্ভাবনা যে একেবারে নেই তা নয়। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রীও হয়তো এই সম্ভাবনার কথা ভাবছেন, তিনি জয়ললিতা, মায়াবতী, কেজরিওয়ালের সমর্থন ও সহযোগিতায় দিল্লিতে ক্ষমতা দখলের কথা ভাবতে শুরু করলে বিস্ময়ের কিছু নেই। কিন্তু ডান বা বামের এ ধরনের আঞ্চলিক দলভিত্তিক কোয়ালিশন সরকারের বিপদ এই যে তাদের রাজ্যভিত্তিক রাজনীতি ও আঞ্চলিকতা একটি বড় দেশের ঐক্য ও সংহতির জন্য সব সময় মঙ্গলজনক হয়ে ওঠে না। ভারতের মতো এত বড় দেশের জন্য তো নয়ই। ভারতের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আমেরিকায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের মতো দুটি সর্বভারতীয় শক্তিশালী দলের প্রয়োজন। ভারতে কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর শক্তিশালী বাম রাজনীতিতেও বিপর্যয়ের ঘণ্টাধ্বনি ভালো খবর নয়। ভারতের জনগণের জন্য তো নয়ই, তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও নয়। এখন দেখার রইল, এই অবস্থার পরিবর্তন কত দিনে বা কত শিগগির হয়।
ভারতে হিন্দুত্ববাদের উত্থানের মতো বাংলাদেশে উগ্র ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানের মূল কারণ, জাতীয় রাজনীতিতে বাম গণতান্ত্রিক শক্তির অবস্থান নষ্ট হওয়া। পঞ্চাশের দশক থেকে সত্তরের দশক পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিলেও তার শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল বাম রাজনীতি। রাশিয়া ও চীনের তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে বিভক্ত কমিউনিস্ট দলের এক অংশ আওয়ামী লীগের বি টিমে পরিণত হয়। অন্য চীনপন্থী অংশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে জাতীয় রাজনীতির মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং বিভিন্ন স্প্লিন্টার্স গ্রুপে বিভক্ত হয়।
মজার ব্যাপার এই যে ভারতের সিপিআই এখন যেন কংগ্রেসের ছায়া দেখলেও ভয় পায়, তেমনি বাংলাদেশের সিপিবি এখন সর্বপ্রযতেœ আওয়ামী লীগের সংস্রব এড়াতে চায়। অতীত সম্ভবত তাদের তাড়া করে ফিরছে। নেতারা কমিউনিস্ট থেকে কলামিস্ট হয়ে এখন তত্ত্বকথা ঝাড়ছেন। তাদের প্রতিপক্ষ অপর অংশও এখন সাইনবোর্ডসর্বস্ব দল। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনই শক্ত সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভিত্তি ছাড়া সফল হতে পারে না। ভাষাসাহিত্যের আন্দোলন বাংলাদেশে সেক্যুলার জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে শক্তি জুগিয়েছে। আওয়ামী লীগ এই রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু তার সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তি গড়ে তুলেছিল বাম রাজনীতি। বামেরা এখন বিভক্ত ও দুর্বল। তার সাংস্কৃতিক শক্তির ভিত্তিটাও নড়বড়ে। আওয়ামী লীগকে মধ্য বাম রাজনীতিতে ধরে রাখার আগের শক্তি তার নেই। আওয়ামী লীগ ক্রমাগত ডান দিকে ঝুঁকছে। বিএনপি উগ্র মৌলবাদী জামায়াতের ‘এলাই’। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এই যে শূন্যতা, তা পূরণ করছে পলিটিক্যাল ইসলাম। বিভ্রান্ত তরুণ প্রজন্মের জিহাদিস্ট গ্রুপ।
এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না, যদি বাংলাদেশে বাম, গণতান্ত্রিক ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী মোর্চা গড়ে না ওঠে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্যভিত্তিক জোরদার সাংস্কৃতিক আন্দোলন আবার তরুণ প্রজন্মকে দিশা না দেখায়। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ব্রডওয়ে চার্চ। ভারতের কংগ্রেসের মতো দলটির যাতে পরিণতি না ঘটে, সেদিকে সব গণতান্ত্রিক দল ও ব্যক্তির নজর রাখা উচিত।
আওয়ামী লীগের মতো কোনো শক্তিশালী বিকল্প গণতান্ত্রিক দল যদি গড়ে তোলা না যায়, তাহলে সব ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করার অর্থ হবে, ভারতে হিন্দুত্ববাদের উত্থানের মতো বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিদের উত্থানে সাহায্য করা। আওয়ামী লীগ সরকার এই মৌলবাদী উত্থানকে শুধু ঠেকিয়ে রেখেছে। তাকে বাংলার মাটি থেকে নির্মূল করতে পারছে না। পঞ্চাশের দশকের মতো শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং তার ভিত্তিতে বাম গণতান্ত্রিক রাজনীতি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে না তুললে শুধু টক শো ও সংবাদপত্রের কলামে আলোচনার ঝড় তুলে কোনো লাভ হবে না।

You Might Also Like