অন্তর্নিহিত সৃষ্টিশীল শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে: ড. ইউনূস

আমেরিকান গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির পরিবর্তে তাদের অন্তর্নিহিত সৃষ্টিশীল শক্তিকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১০ সহস্রাধিক গ্র্যাজুয়েটের সমাবেশে চাকরির চেষ্টাকে একটি কৃত্রিম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ‘নিয়োগের স্বৈরাচার’ বলে আখ্যায়িত করেন, যা মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে হত্যা করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগোর সব ক্যাম্পাসের সম্মিলিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গত শনিবার মূল সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তাদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, ‘তোমাদের সামনে একটি বিশাল পৃথিবী অপেক্ষা করছে। তোমাদের প্রত্যেকের ভেতরে অপরিসীম ক্ষমতা রয়েছে। তোমরা যদি শুধু নিজেদের জন্যও এই ক্ষমতা ব্যবহার করো, তোমরা এর সামান্যই কাজে লাগাতে পারবে। তাই নিজেদের দেখাশোনার পাশাপাশি তোমরা গোটা পৃথিবীর দায়িত্বও নাও না কেন।’

সান ডিয়েগোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ বছরে প্রথম তাঁর সকল ক্যাম্পাসের সম্মিলিত সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করলো। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাদের সনদপত্র গ্রহণ করেছে। সর্ববিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের পর কলেজগুলো তাদের অনুষ্ঠান আলাদাভাবে উদযাপন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রদীপ খোসলা বলেন, ‘আমাদের বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষার্থী সাহসী ও উদ্ভাবনশীল। তারা আমাদের প্রধান সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের মতো যেকোনো প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জ করতে ও দিগন্তকে প্রসারিত করতে সক্ষম।’

প্রফেসর ইউনূস নবীন গ্র্যাজুয়েটদেরকে নিজেদের দেখাশোনার চেয়েও বেশি কিছু করতে অনুপ্রাণিত করেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের সামনে একটি বিশাল পৃথিবী অপেক্ষা করছে। তোমাদের প্রত্যেকের ভেতরে অপরিসীম ক্ষমতা রয়েছে। তোমরা যদি শুধু নিজেদের জন্যও এই ক্ষমতা ব্যবহার করো, তোমরা এর সামান্যই কাজে লাগাতে পারবে। তাই নিজেদের দেখাশোনার পাশাপাশি তোমরা গোটা পৃথিবীর দায়িত্বও নাওনা কেন।’

ড. ইউনূস আরো বলেন, ‘তরুণরা বরাবরই অর্থপূর্ণ কিছু করতে চায়, কিন্তু সে সুযোগ তারা সব সময় পায় না। সমাবর্তন বক্তব্য প্রদানের পূর্বে প্রফেসর ইউনূসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উপাচার্য পদক’ প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রদীপ খোসলাকে। ১৯৬০ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ১১ জন ব্যক্তিকে এ পদক প্রদান করা হয়েছে।’

You Might Also Like