‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে পারবেন না এমপিরা’

এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) না রাখা ও বিশেষ কমিটি বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে ৪টি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে এমপিরা আর সভাপতি থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আজ (রোববার) সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ‘নো অর্ডার’ দেন। আদালতে ভিকারুননিসার পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট রিট আবেদনকারীদের ‍পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউনুচ আলী আকন্দ।

আদেশের পরে ইউনুচ আলী আকন্দ বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালার ৫ ও ৫০ ধারা বাতিল ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, আপিল বিভাগের আদেশে তা বহাল রয়েছে। সুতরাং সংসদ সদস্যরা গভর্নিং বডির সভাপতি থাকতে পারছেন না।’

এর আগে গত ১ জুন বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৫ (২) এবং ৫০ ধারাকে বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদেশে বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সভাপতি করে রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুলের গঠিত ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

পরে ৮ জুন হাইকোর্টের ওই রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি ১২ জুন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ধারা ৫ (সংসদ সদস্যদের সভাপতি থাকার বিধান), ধারা ৫০ (বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা) ও ভিকারুননিসা নুন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়। এই ধারা বাতিলের আগে প্রো-বিধানের ৫ ধারায় ক্ষমতা বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি অধিষ্ঠিত হতে পারতেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধ্যাদেশের (১৯৬১) আওতায় ‘মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর ৫ ধারা (গভর্নিংবডির সভাপতি মনোনয়ন) এর (১) উপ-বিধিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এমন সংখ্যক উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন’।

‘(২) উপ-বিধান ১ এর অধীন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত যেসব উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তার উল্লেখসহ লিখিতভাবে এ প্রবিধানমালার অধীন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করবেন এবং এ অভিপ্রায়পত্র সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি হিসেবে তার মনোনয়ন হিসেবে গণ্য হবে’।

৫০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘বিশেষ ধরনের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি- বিশেষ পরিস্থিতিতে বোর্ড এবং সরকারের পূর্বানুমোদক্রমে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ধরনের গভর্নিং বডি বা ক্ষেত্রমতে ম্যানেজিং কমিটি করা যাবে’।

You Might Also Like