পরমাণু সমঝোতা ইরান পুরোপুরি মেনে চলছে: আমানো

এখন সময় ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র নিয়মিত বৈঠকে ইরানের পরমাণু তৎপরতার বিষয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। আইএইএ’র প্রধান ইউকিয়া আমানো এ সংস্থার বৈঠকে বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছে ইরান তা পুরোপুরি মেনে চলছে।

নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফিও বলেছেন, তেহরান বহুবার জানিয়ে দিয়েছে পরমাণু সমঝোতা সব পক্ষকেই পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নেয়া থেকে সবার বিরত থাকা এবং সমঝোতা বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়া উচিৎ। রেজা নাজাফি আরো বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী আইএইএকে দেয়া বিভিন্ন দেশের পরমাণু তৎপরতা বিষয়ক তথ্য গোপন রাখা এ সংস্থার দায়িত্ব।

আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি বলেন, যেসব দেশ ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চায় এবং ইউকিয়া আমানোর প্রতিবেদনে ইরানের বিষয়ে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে যা পরমাণু সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ পরমাণু ক্ষেত্রে সমঝোতার অর্থ এ নয় যে, পরমাণু বাণিজ্য, প্রযুক্তি কিংবা অন্যান্য বিষয়ে আমাদের গোপন তথ্য সবাই জেনে যাক। পরমাণু বিষয়ে এ পর্যন্ত যেসব চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছে তাতে স্পষ্ট বলা আছে আইএইএ’র সদস্য দেশগুলোর দেয়া গোপন তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব এই সংস্থার।

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় কোনো দেশের পরমাণু শিল্প, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেয়া তথ্য ফাঁস না করার কথা বলা হয়েছে। পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবেও আইএইএকে তার দায়িত্ব পালনের আহবান জানানো হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে তার দেশের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি আইএইএ কিংবা অন্য কোনো সংস্থাকে দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ’র এ চেষ্টার ফলে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের স্পর্শকাতরতা ও সন্দেহ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইএইএ’র নির্বাহী বোর্ডের এবারের বৈঠকে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আমানোর প্রতিবেদনের ওপর পর্যালোচনা ছাড়াও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরাজমান উদ্বেগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি পরমাণু অস্ত্রের ব্যাপারে দখলদার ইসরাইলের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসরাইল আজ পর্যন্ত মারণাস্ত্রের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন কানুন মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে, পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ও এর ব্যবহারের আশঙ্কাও বজায় রেখেছে এবং পরমাণু ওয়ারহেড প্রস্তুত রেখেছে। এ অবস্থায় পরমাণু বিষয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ একেবারেই হাস্যকর।

বর্তমানে সারা বিশ্বে হাজার হাজার পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে যা দিয়ে পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু তারপরও পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলো এ অস্ত্রের আধুনিকায়নের পেছনে কোটি কোটে ডলার খরচ করছে। আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেনের সহযোগিতায় দখলদার ইসরাইলও শত শত পরমাণু বোমা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরাইলের হাতে পরমাণু বোমা রয়েছে। ইসরাইল কখনই তার গোপন পরমাণু স্থাপনায় কাউকে পরিদর্শনের সুযোগ দেয়নি।

You Might Also Like