মৃত্যু পরোয়ানা শুনলেন মীর কাসেম আলী, রিভিউ’র সিদ্ধান্ত

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ কর্তৃপক্ষ মীর কাসেম আলীকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনান।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার মো. নাসির আহমেদ জানান, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী কারাগারের ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দি আছেন। উচ্চ আদালতে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনালে পৌঁছালে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানার আদেশ গতকাল সোমবার রাতেই প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ওই আদেশের কপি গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। বেশি রাত হয়ে যাওয়ার কারণে আজ সকালে মীর কাসেম আলীকে মৃত্যু পরোয়ানার আদেশ পড়ে শোনানো হয়েছে।

নাসির আহমেদ আরো জানান, রায় পড়ে শোনানোর সময় তিনিসহ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বালা ও কারাগারে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মীর কাসেম আলী আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন।

গতকাল (সোমবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী পাঁচ বিচারপতি রায়ে স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশিত হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, রায় ও মৃত্যু পরোয়ানা শোনার পর থেকে রিভিউ আবেদন জানানোর জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন মীর কাসেম। আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন না করলে আইন অনুসারে দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রিভিউ হলে রায়ের কার্যকারিতা ও মৃত্যু পরোয়ানা স্থগিত থাকবে। রিভিউ খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া ফের শুরু হবে। সেক্ষেত্রে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন আসামি। প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে কিংবা আবেদন করার পর নাকচ হয়ে গেলে চূড়ান্তভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

অন্যদিকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেয়া ফাঁসি বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত আকারে মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের ওই রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল।

 

ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত মোট ১০টি অভিযোগের মধ্যে আরও ৬টি অভিযোগে মীর কাসেমের সাজা বহাল এবং আরও ২টি থেকে অব্যাহতি ও খালাস দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির পাশাপাশি ৫৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন তিনি।

২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে কাসেম আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় তাঁর যুদ্ধাপরাধের বিচার। ২০১৪ সালের আগে হাজতবাসকালে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। পরে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়ার পর তাঁকে কনডেম (ফাঁসি) সেলে পাঠানো হয়।-পার্সটুডে

You Might Also Like