বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বদলা নেবে আইএস

এখন সময় ডেস্কঃ আইএসের নামে প্রচারিত এক তথ্যচিত্রে মুসলমান হত্যা ও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে প্রচারিত তথ্যচিত্রটি সত্যিই আইএসের কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গণমাধ্যমগুলো বলেছে, ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার ওপর ফোকাস করা আইএসের এটিই প্রথম ভিডিও।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ২০১৪ সালে আইএসে যোগ দিতে ইরাক ও সিরিয়ায় যাওয়া ৫ জিহাদিকে ওই ভিডিওতে প্রতিশোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। তারা বলছেন, ভারতের গুজরাট, কাশ্মীর, মুজাফফরনগরের মুসলমান হত্যা এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নেবেন।
খবর অনুযায়ী, আরবি ভাষায় নির্মিত ২২ মিনিটের ওই তথ্যচিত্রে ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন যুদ্ধের ছবি দেখা গেছে। তথ্যচিত্রে রয়েছে ভারতের উল্লেখযোগ্য স্থান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পুরনো ইতিহাসের কথা। ঐতিহাসিক পরিক্রমার প্রসঙ্গ তুলে তথ্যচিত্রের শুরুতে বলা হয়, এক সময় মোহাম্মদ বিন কাশিম অঞ্চলটি (ভারত) জয় করেছিলেন এবং ইসলামি শাসনের ভিত্তি তৈরি করেন।
এরপর ব্রিটিশরা হিন্দুদের কাছে ভারতের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় উল্লেখ করে ভিডিওতে বলা হয়, দেশটির মুম্বাই, গুজরাট, আসাম ও মোরাদাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। ভারতীয় হিন্দুদের ‘গরুর পূজক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ভিডিওতে। তথ্যচিত্রে দেখা গেছে সিরিয়ার মাটিতে জঙ্গি সংগঠন আইএসের একদল তরুণকে হামলা চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় চলে যাওয়া ভারতীয় তরুণ ফাহাদ তানভীর শেখকে ভিডিওতে দেখা গেছে। তিনি মহারাষ্ট্রের থানের প্রকৌশলবিদ্যার শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ভিডিওতে তাকে আবু আমর আল-হিন্দি নামে দেখা গেছে। সেখানে শেখকে প্রতিজ্ঞা নিতে দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওতে তিনি বলছেন, ‘আমরা আবার ফিরব, তবে হাতে তলোয়ার থাকবে। বদলা নেব কাশ্মীর, গুজরাট, মুজাফফরনগরে মুসলিম হত্যার, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের।’ তথ্যচিত্রের বেশিরভাগ অংশজুড়েই রয়েছে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার। অপরিচিত কোনো উপকূলীয় এলাকায় সাক্ষাৎকারগুলো ধারণ করা হয়েছে।
ভিডিওর একটি অংশে দেখা গেছে ছয় ব্যক্তি পাশাপাশি বসে আছেন এবং জিহাদি গান গাইছেন। সে গানের মধ্য দিয়ে তারা নতুন প্রভাতের শপথ নিচ্ছেন। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এক জিহাদি বলেন, ২০০৮ সালে বাটলা হাউসে গোলাগুলির পর তিনি মুম্বাই থেকে খোরাসান অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাটলা হাউসের ওই গোলাগুলিতে ইন্ডিয়ান মুজাহিদীনের কমান্ডার নিহত হয়েছিলেন।

ওই জিহাদি খোরাসানে যাওয়াকে তার প্রথম হিজরত বলে উল্লেখ করেন আর সিরিয়া যাওয়াকে দ্বিতীয় হিজরত বলে উল্লেখ করেন। ভারতে ফিরে মুসলিম হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার জানিয়ে সে জিহাদি বলেন, ‘আপনারা কি মুম্বাইয়ের ট্রেনে বোমা হামলার কথা ভুলে গেছেন কিংবা আহমেদাবাদ, সুরাট, জয়পুর ও দিল্লিতে বোমা হামলার কথা?’

You Might Also Like