সুইফট কারিগরদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি

রাজকোষ কেলেঙ্কারি তদন্তের অংশ হিসেবে সুইফটের কারিগরদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এজন্য সুইফট কর্তৃপক্ষের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। এ কারিগররাই ফেব্রুয়ারির ওই কেলেঙ্কারির কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার সুইফটের নতুন সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশের অভিযোগ, এ কারিগররাই পুরো সিস্টেমকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলে গিয়েছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সুইফটের কাছে সহায়তা চেয়ে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে সিআইডি। এ ই-মেইলে সিআইডি বলেছে, ওই কারিগরদের আগামী সপ্তাহে ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমের সঙ্গে সুইফটকে সংযুক্ত করার সময় ঝুঁকি সৃষ্টি করে যান ওই কারিগররা।
চলমান তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিআইডি’র একটি সূত্র বলেছে, ‘ওই কারিগরদের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট ও বাস্তব প্রমাণ রয়েছে। এ কারিগররা হয়তো সুইফটের অজ্ঞাতে কাজ করেছে, ব্যক্তিগতভাবে।’
ওই সূত্র জানায়, প্রায় অর্ধডজন কারিগর ও কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছাড়াও বাংলাদেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সুইফট কর্মকর্তাকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই কারিগরদের নাম ও নাগরিকত্ব জানা যায়নি। সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা দ্য তেরান এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশের আরও কয়েকটি সূত্র এর আগে রয়টার্সকে বলেছিল যে, সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করেনি ওই কারিগররা। এ কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকে অবস্থিত সুইফট মেসেজিং সার্ভিস অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এমনকি দূর থেকেই সাধারণ পাসওয়ার্ড দিয়ে সার্ভিসে ঢুকা যাচ্ছিল।
বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগ করা একটি তদন্ত প্যানেল ব্যাংকের স্থানীয় নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করার সময় একাধিক ভুল করার অভিযোগ আনে সুইফটের বিরুদ্ধে। তবে সুইফট এ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে। সুইফট বলেছে, তাদের আর্থিক মেসেজিং সিস্টেম এখনও নিরাপদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার হামলার সময় হ্যাকাররা এ মূল সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে আরটিজিএস স্থাপন করা হয়, পরে একে সুইফটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। আরটিজিএস’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে বড় আর্থিক লেনদেন করার সক্ষমতা অর্জন করে। ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট ক্রিডেনশিয়াল বা চাবিকাঠি দখলে নিয়ে হ্যাকাররা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ভুয়া অর্থ ট্রান্সফারের অনুরোধ পাঠায়। সেখানে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের নির্দেশনা পাঠায় হ্যাকাররা। বেশির ভাগ অনুরোধ বাতিল করে দেয়া হলেও, প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট করতে সক্ষম হয় তারা। ওই অর্থের কিছুটা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো হদিস আজও পাওয়া যায়নি।

You Might Also Like