বিদেশি শ্রমিক নেয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মালয়েশিয়ার

বিদেশি শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে ৪টি খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী লিওউ তিয়ং লাই’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে সেদেশের দ্য স্টার পত্রিকা।

এতে বলা হয়েছে এসব খাত হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, বৃক্ষায়ণ (প্লান্টেশন) ও আসবাবপত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। এসব খাতে প্রচণ্ড রকম শ্রমিক সঙ্কট বিরাজ করছে দেশটিতে। খাতগুলোর সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিদেশী শ্রমিক নেয়ার জন্য। তারই প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালয়েশিয়ার ওই মন্ত্রী বলেন, প্রচণ্ড শ্রমিক সঙ্কটের প্রেক্ষিতে এসব খাতে বিদেশী শ্রমিক আনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হচ্ছে আমাদের। তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে বিদেশী শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীসভায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে তারা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতে বিদেশি শ্রমিক নেয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন। তিনি বলেন, অন্যান্য খাতে আমরা একটির পর একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। এ বিষয়ে আরও তথ্যপ্রমাণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। উৎপাদনশীল খাতগুলোতে শ্রমিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যদি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন তাহলে তাতে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ভাল হবে না। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি খাত কি সব সমস্যা মোকাবিলা করছে তা অনুধাবন করতে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে মালয়েশিয়ায় বিদেশী শ্রমিক ভাড়া করার ক্ষেত্রে তিনি যথাযথ নিয়মতান্ত্রিকতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ম্প্রতি ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স-এর এক একটি জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৮৪ ভাগ ম্যানুফ্যাকচারার শ্রমিক সঙ্কটে ভুগছে। ওই জরিপে আরও দেখা যায়, এ বছর ১৪৬টি কোম্পানিতে ১৩ হাজার ২৭০ জন নতুন শ্রমিক প্রয়োজন তাদের ব্যবসায়িক কাজের জন্য। এর মধ্যে যেসব পুরনো শ্রমিক কাজের অযোগ্য হয়ে পড়েছেন তাদের স্থানে নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। যারা দেশে ফেরত যেতে চান তাদের পরিবর্তেও নতুন শ্রমিক প্রয়োজন। তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ডিপার্টমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী ড. উই কা সিয়ং বলেন, যেসব বিদেশী শ্রমিক অবৈধ অবস্থায় অবস্থান করছেন মালয়েশিয়ায় তাদেরকে নতুন করে কাজে নিয়োগ করানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই ম্যানুফ্যাকচারার্সদের সহযোগিতা করতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ করে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করার পর যেসব প্রতিষ্ঠান প্রচণ্ড রকম মানবসঙ্কটের মুখে পড়েছে তাদের জন্য এ সহায়তা বেশি করতে হবে। মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার অবৈধ শ্রমিককে নতুন করে কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, সেদেশে এমন শ্রমিক রয়েছেন ১৪ লাখ। গত মাসে উপ প্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি বলেছেন, বিদেশী শ্রমিক নিয়োগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই বিদেশী শ্রমিক নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় মালয়েশিয়া সরকার।

You Might Also Like