তুরস্কে রাজনৈতিক সঙ্কটের পরিণতি

মাসুম খলিলী

গত সপ্তাহের বিশ্ব পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেভতুগ্লুর পদত্যাগের ঘোষণা। মে’র প্রথম সপ্তাহে এক আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) একটি জরুরি কনভেনশনের আহ্বান করে সেখানে নতুন দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সে নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণাও দেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আহমেদ দেভতুগ্লু কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষণাই দিলেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী ২০০২ সালে দলটি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একেপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হয়ে আসছেন। আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান অ্যাকাডেমিক ব্যক্তিত্ব আহমেদ দেভতুগ্লুর এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের এক সঙ্কট সময়ে কতটুকু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা নিয়ে গত কয়েক দিনে তুরস্কের ভেতরে ও বাইরের আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়।

সঙ্কটের উৎস কোথায়?

প্রাথমিকভাবে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেভতুগ্লুর দায়িত্ব থেকে সরে আসার পেছনে প্রেসিডেন্ট রপজ তাইয়েব এরদোগানের সাথে মতবিরোধের বিষয়টিই উঠে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই নির্বাচিত ব্যক্তিত্বের মধ্যে কিছুটা ব্যবধান যে সৃষ্টি হয়নি তা নয়। তবে এই দূরত্ব তৈরির মূল কারণ হলো দেশটির শাসনপদ্ধতির কাঠামোগত রূপান্তরের বিষয়টি।

তুরস্কে এখনকার শাসনতন্ত্রটি তৈরি করেছিল ’৮০-এর দশকে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর পর ক্ষমতায় আসা সামরিক জান্তা। গত দশকের শুরুতে একে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ সংবিধান পুনর্লিখনের কথা বলে আসছিল। প্রথম দিকে দলটি শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের চেয়েও ক্ষমতা সুসংহত করার প্রতি নজর দেয়। এ সময়ে তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায়ের জন্য সাংবিধানিক আদালতে নিষিদ্ধকরণ মামলা ও সামরিক হস্তক্ষেপ ঘটানোর একাধিক প্রচেষ্টা চলে। ইসলামি পটভূমি থেকে উঠে আসা একটি রক্ষণশীল দলের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারেও আপত্তি তোলা হয়। এসব বাধা উত্তরণ করে আবদুল্লাহ গুলকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট করা হয়।

এ সময় থেকে তুরস্কের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছোটখাটো সংস্কার এনে এটিকে বেসামরিক শাসনের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ভূমিকারও অবসান ঘটানো হয়। একে পার্টির প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান সমর্থন এরদোগানকে তার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। এরদোগান দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশটির শাসনতন্ত্র নতুন করে লেখা এবং সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতি শাসিত ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান তৈরির অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেন। এর প্রস্তুতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সাত বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। এরদোগান তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একে পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। বিদ্যমান শাসনতন্ত্র অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি অরাজনৈতিক পদ হওয়ায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এরদোগানকে একেপি চেয়ারমানের পদ ছেড়ে দিতে হয়। আর তিনিই এ পদের জন্য বেছে নেন তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দেভতগ্লুকে। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর তার নেতৃত্বাধীন প্রথম নির্বাচনে একে পার্টি ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো সংসদে একক সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এরপর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী দেভতগ্লু কোয়ালিশন সরকার গঠনের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্য দলগুলোর সাথে আলোচনা করেন। কিন্তু একেপির সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ব্যাপারে ঐকমত্য না হওয়ায় পাঁচ মাসের মাথায় পুনর্নির্বাচন দেয়া হয় তুরস্কে। এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের জন্য একে পার্টি সব শক্তি বিনিয়োগ করে। শেষ পর্যন্ত নভেম্বরের এই নির্বাচনে প্রত্যাশিত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ৫০ শতাংশের কাছাকাছি জনসমর্থন পায় দলটি।

নভেম্বরের এই নির্বাচনের পর শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরের ব্যাপারে প্রকৃত সঙ্কট শুরু হয়। একেপির পরিকল্পনা অনুষ্ঠানে সংবিধান পুনর্লিখন বা সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি ছিল মূল কাজ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দেভতগ্লু মনে করেন, প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির ব্যাপারে অধিক জোর দিতে গিয়ে প্রথমবার দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। পরেরবার শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরের চেয়েও স্থিতি ও অগ্রগতির ওপরই মূল জোর দেয়া হয়। তার এই মূল্যায়নের ফলে কয়েকটি মৌলিক সমস্যা দেখা দেয়।

প্রথমত, প্রত্যাশিত রূপান্তরের জন্য প্রশাসন ও জনমত তৈরির জন্য যেসব কার্যক্রম সরকারের নেয়ার কথা ছিল, তা গ্রহণ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু’জন নির্বাচিত ব্যক্তির সরকার পরিচালনা ও জাতীয় নীতি নির্বাচনে কার কী ভূমিকা থাকবে তা নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে চান, প্রধানমন্ত্রী চান তার শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনে প্রেসিডেন্ট হস্তক্ষেপ না করুক। এ বিষয়টি দু’জনের মধ্যে ক্রমাগতভাবে দূরত্ব তৈরি করতে থাকে। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিসংক্রান্ত কিছু মৌলিক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। সংবাদপত্র ও সুশীলসমাজের আন্দোলন সংগ্রামের ব্যাপারে দেভতগ্লু ছিলেন উদার ও সহনশীল নীতির পক্ষে। অপর দিকে, প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে অতীতের অনুসৃত নীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ব্যাপারে রাশিয়া, মিসর ও সিরিয়ার ব্যাপারে কিছু স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হলেও সমঝোতার পক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ আপসকামিতা তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে বিপত্তি ডেকে আনবে বলে মনে করেন। চতুর্থতম দেভতগ্লু তার মতো করে শাসক দল একেপিকে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি এ ব্যাপারে এরদোগানের পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজনবোধ করেননি। দলের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি এরদোগান গ্রহণ করতে পারেননি।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মতের এই দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণ হলো শাসনতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়টি ঝুলে থাকা। এর কারণে শাসক দলের মধ্যে ক্রমেই এরদোগান ও দেভতগ্লুর দু’টি ধারা শুরু হতে যাচ্ছিল। এ অবস্থা বেশিদূর আগানোর আগেই এর একটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে পেরেছেন এরদোগানের দিকনির্দেশনা ও মূল কর্মপ্রক্রিয়ার বাইরে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী একে পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এ উপলব্ধি থেকে তিনি দলের মধ্যে কোনো অনৈক্য বা বিভাজনের সৃষ্টি না করে সরকারপ্রধানের পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। তবে তিনি সংসদ সদস্য ও দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন। একই সাথে প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা অব্যাহত থাকার কথাও ঘোষণা করেন।

আহমেদ দেভতগ্লুর এই বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, তিনি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে চান না। এ ক্ষেত্রে তিনি সফল হবেন কি হবেন না তার চেয়েও বড় বিষয় হলো দেভতগুø চলমান সঙ্কট সময়ে তুরস্কে কোনো অস্থিরতা নিয়ে আসতে চান না। প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এরদোগান প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে এ দায়িত্বভার গ্রহণ করলে অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন গুল একে পার্টির পরবর্তী চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু এরদোগান সেটি চাননি বরং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আহমেদ দেভতগ্লøুকে বেছে নেন। এতে আবদুল্লাহ গুল হয়তো অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন কিন্তু তিনি একে পার্টিতে কোনো ভাঙন ধরাতে চাননি অথবা বিকল্প কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করে নিজের প্রতিষ্ঠিত দলকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে চাননি। অধিকন্তু জুনের নির্বাচনে একেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে দল যাতে পুনর্নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরে যেতে পারে তার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন।

কোন পথে তুরস্ক

তুরস্কের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বড় কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। তবে দেশটির গন্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তুর্কি মিডিয়ার বর্তমান সঙ্কট ব্যক্তিত্বের সঙ্ঘাতের চেয়েও কাঠামোগত সঙ্কট হিসেবে বেশি মূল্যায়িত হচ্ছে। নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার ইস্যুটি কিছুটা হারিয়ে গিয়েছিল। এখন সেটি আবার মুখ্য হয়ে উঠে এসেছে।

এরদোগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এখন তুরস্ক ‘না প্রেসিডেন্ট না প্রধানমন্ত্রী’ শাসিত দেশে পরিণত হয়েছে। তুরস্ককে অবশ্যই কোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে। বিরোধী দল সিএইচপি, এমএইচপি অথবা এইচডিপি কোনোটাই কার্যকর রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় তুরস্কের রূপান্তরকে সমর্থন করছে না। কিন্তু দেশটির জনগণ অনেকটাই রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির পক্ষে চলে গেছে। এরদোগান যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন তখন তার প্রধান বক্তব্য ছিল সংবিধান নতুন করে লেখা ও রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিতে যাওয়ার জন্য তিনি জনগণের রায় চাইছেন। সে সময় তিনি ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। বিগত নভেম্বরের নির্বাচনেও তার দল সাড়ে ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। গেজিসি রিসার্চ কোম্পানি (জিআরসি) পরিচালিত সর্ব সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫৫.২ শতাংশ মানুষ প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির পক্ষে। এর বিপক্ষে মত জানিয়েছে ৩৫.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। বাকিরা কোনো মত দেয়নি। একই জরিপ অনুসারে এখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে একে পার্টি ৫৬.২ শতাংশ ভোট পাবে। আর ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি-এমএইচপি ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিস পার্টিÑ এইচডিপি ১০ শতাংশের ন্যূনতম ভোটপ্রাপ্তি রেখার নিচে চলে যাবে।

এই জরিপটিতে হুবহু জনমতের প্রতিফলন কতটা ফুটে উঠেছে তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে নানা টানাপড়েনের মধ্যেও একে পার্টির পক্ষে জনমত যে বেশ খানিকটা বেড়েছে তাতে সংশয় নেই। এ অবস্থায় তুরস্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ হতে পারে দু’টি। একটি হলো সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল কোনো একটি বিরোধী দলের সাথে সমঝোতায় এসে সংবিধান সংশোধনীর ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি ও এইচডিপির সাথে সমঝোতার সম্ভাবনা কম। এমএইচপির সাথে সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। যদিও দলটির প্রধান বাসেলির দৃষ্টিভঙ্গি এরদোগানের ব্যাপারে একবারেই বিরূপ।

দ্বিতীয় বিকল্প হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে একেপির অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের চেষ্টা করা। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়া হয়নি। তবে সংবিধান পরিবর্তনের ব্যাপারে গণভোট অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী সংবিধানের সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করে গণভোটে যেতে হলে ৩৩০ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। সেই সমর্থন একেপির নেই। এরপরও কিভাবে গণভোট হবে সেটি স্পষ্ট নয়।

তবে কোন পথে একে পার্টি অগ্রসর হবে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে আগামী ২২ মে অনুষ্ঠিতব্য দলের বিশেষ কনভেনশনে। এতে দলের নতুন চেয়ারম্যান ও দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটি নির্ধারিত হতে পারে। নতুন প্রধানমন্ত্রী যে তুলনামূলকভাবে কম ক্যারিসমেটিক কোনো নেতা হবেন সেটি বোঝা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দু’টি নাম বিশেষভাবে সামনে চলে এসেছে। এর একটি হলো বর্তমান পরিবহনমন্ত্রী ও সাধারণভাবে ইতিবাচক ভাবমূর্তির অধিকারী বিনালি ইলড্রিম। ৬১ বছর বয়সী দীর্ঘ সময় পরিবহনের দায়িত্ব পালনকারী এই মন্ত্রীর প্রশাসন চালানোতে দক্ষতা রয়েছে। অন্যজন হলেন ৫১ বছর বয়সী বিচারমন্ত্রী বেকির বোজডাগ। এরদোগানের প্রতি বিশেষভাবে অনুগত হিসেবে পরিচিত তিনি। এর বাইরে বিরোধী দল সমর্থক পত্রিকাগুলো এরদোগানের মেয়ে জামাই ও জ্বালানীমন্ত্রী বেরাট আলবায়রাকের নামও সামনে নিয়ে এসেছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই যুবক মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আসলে নেই।

নতুন প্রধানমন্ত্রী ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একে পার্টির শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনকে এক নাম্বার অগ্রাধিকার দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার দল কতটা সফল হবেন সেটি নির্ভর করবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের কার্যক্রমের ওপর।

বিশ্ব নিয়ন্ত্রকরা তুরস্কে বড় রকমের কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্ভবত কামনা করছে না। এটি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই পড়বে না, একই সাথে অরাজক পরিস্থিতি ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে শরণার্থী সঙ্কটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ইউরোপকে অস্থিতিশীল ও ইইউতে ভঙ্গুরতা সৃষ্টি করেছে। অন্য দিকে, তুরস্কের মতো ন্যাটোর একটি প্রভাবশালী দেশ সঙ্কটাপন্ন হলে রাশিয়া প্রবল প্রতাপে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব সৃষ্টি করবে। ইউক্রেন ও সিরিয়ার ঘটনাবলি ইতোমধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতার কারণে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা তুরস্কে অস্থিতিশীলতার ইন্ধন নাও দিতে পারে। এটি হলে তুরস্ককে শাসনতান্ত্রিক যে রূপান্তরের লক্ষ্যে এরদোগান নিয়ে যেতে চাইছেন সে লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।

mrkmmb@gmail.com

You Might Also Like